যশোরে চলতি বছরে গত আট মাসে তিন হাজার ২৩ জন যক্ষারোগে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৬ জন শিশুও রয়েছেন।
এছাড়া এ রোগে মারা গেছে ১১জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ রোগ নির্মূলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন তিন শ’৩২ জন। বর্তমানে জেলাতে যক্ষারোগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুই হাজার ৬শ’ ৯১ জন।
বুধবার বেলা সাড়ে ১০ টায় রেডক্রিসেন্ট যশোরের মিলনায়তনে অ্যাডভোকেসী সভায় এ তথ্য উপস্থাপন করে ব্র্যাক।
বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে এই অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাক যশোরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, মানুষ জনের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ছে। মানুষ এখনএকটু কিছু হলেই চিকিৎসকের কাছে ছুটে আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে যক্ষা রোগী সনাক্তের জন্য জেলায় জেলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার হার বাড়ানো হয়েছে
বর্তমানে অত্যাধুনিক জিন এক্সপার্ট মেশিনের সাহায্যে যক্ষা রোগী সনাক্তের শতভাগ নির্ভুল পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। তার পরেও সম্পূর্ণ সরকারী খরচে যক্ষা রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও জনসচেনতার অভাবসহ নানা কারনে এখনো অনেক মানুষ চিকিৎসা কেন্দ্রে যান না। তাই সামাজিক আন্দোলন দরকার। এ আন্দোলন ছাড়া যক্ষা রোগ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়।
সভা থেকে আশাপাশের কারো ২ সপ্তাহের বেশি কাশি, সন্ধ্যায় জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং খাবারে অরুচি হলে কফ পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করা হয়। এজন্য নেতৃবৃন্দ বিনামূল্যে পরীক্ষা ও যক্ষারোগ নির্ণয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আহবান জানান। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
জেলা নাটাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর সাদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর সিভিল সার্জনের মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজ। এসময় বক্তব্য রাখেন যশোর সিভিল সার্জন অফিসের শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এম বাতেন, জেলা নাটাবের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান ও ব্র্যাক যশোরের এরিয়া সুপারভাইজার শেখ শরিফুল ইসলাম।

