বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বান্ধবীর সাথে কথা বলার অপরাধে শাফায়েত মাহমুদ প্রাণ (১৪) নামের স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে একই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
রবিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকালে যশোরের শার্শা সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী প্রাণ শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের আনাছার আলীর ছেলে এবং শার্শা সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনার পর পর আহত প্রাণকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার বাবা আনছার আলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। অন্যদিকে ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র প্রাণ অভিযোগ করে জানায়, রবিবার সকালে সে ক্লাস শেষ করে শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হলে তার এক বান্ধবীর সাথে দেখা হয়। এ সময় সে তার বন্ধবীর সাথে বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম দেখে ফেলেন। অতপর শিক্ষক শহিদুল ইসলাম প্রানকে একটি শ্রেণীকক্ষে ডেকে নিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে আহত করে।
স্কুলছাত্রের বাবা আনছার আলী বলেন, ‘রবিবার সকালে আমার ছেলে বাড়ী থেকে স্কুলে যায়। পরে আমি দুপুরে বাড়িতে ফিরে জানতে পারি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ছেলেকে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম তার রুমে ডেকে নিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক ভাবে মারপিঠ করেছে। তৎক্ষনিক ভাবে আমি আমার ছেলেকে নিয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চাই। এর আগে অনেক ছাত্রকে এভাবে মারধরের অভিযোগ রয়েছে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নামে।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের কিছু দূষ্কৃতিকারীরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন স্কুলছাত্রের পিতা। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে।’

