গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা। টি২০ এশিয়া কাপের সুপার-ফোরে উঠতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার মুখোমুখি লড়াইয়ে হারলেই বিদায় নিতে হবে একটি দলকে। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্রপ ‘বি’ এর শেষ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ম্যাচটি শুরু হবে। বিটিভি, নাগরিক টিভি ও টি স্পোর্টস খেলাটি সম্প্রচার করবে।
চলতি এশিয়া কাপে সবার আগে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। ‘বি’ গ্রুপের দলটি প্রথম ম্যাচে ৫৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে উড়িয়ে শ্রীলংকাকে। পরের ম্যাচে ৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশকে হারায় ৭ উইকেটে। যার ফলে টুর্নামেন্টে খাদের কিনারায় দুটি দল। বাঘ-সিংহের লড়াইয়ে একটি দলকে খাদে পড়তেই হবে।
প্রথম ম্যাচ হারের পর লংকান অধিনায়ক দাসুন শানাকা আগেই বলে রেখেছেন, আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলক কম শক্তির দল। তাদের হারিয়ে সুপার-ফোরে উঠার লক্ষ্য শ্রীলংকার। শানাকার কথা তেতো কথার কিছু অংশ এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।
পূর্বের লড়াইয়ের হিসাব-নিকাশে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে শ্রীলংকাই। ১২ বারের মুখোমুখিতে লংকানরা জিতেছে ৮ ম্যাচে আর বাংলাদেশ জিতেছে ৪ ম্যাচ।
দুই দলের সবশেষ দেখা হয়েছিল গত বছর টি২০ বিশ্বকাপে। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওই ম্যাচটি বাংলাদেশকে পাঁচ উইকেটে হারায় শ্রীলংকা।
নাঈম শেখের ৬২ ও মুশফিকুর রহিমের ৫৭ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ১৭১ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে চারিথ আসালাংকার ৮০ ও ভানুকা রাজাপাকসের ৫৩ রানে পাঁচ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলংকা। এবারো লংকান ব্যাটিং লাইনআপে আছেন এই দুই ব্যাটার। দুই ব্যাটার এই ম্যাচেও ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন।
তবে এর আগে ২০১৮ সালে ত্রিদেশীয় নিদহাস ট্রফিতে কলম্বোয় শ্রীলংকাকে দুইবার হারায় বাংলাদেশ। তখন সাকিব ছিলেন দলের অধিনায়ক। লংকানদের বিপক্ষে কখনো টি২০ সিরিজও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। অবশ্য শ্রীলংকার সম্প্রতি পারফরম্যান্স খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী নয়। শেষ পাঁচটি টি২০ সিরিজেই হেরেছে তারা। ১৪ ম্যাচে জয় মাত্র দুইটি।
টি২০তে দুবাইয়ের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হবে এটি। এ মাঠে টসের ভাগ্যও কিছুটা প্রভাব রাখে। এ ভেন্যুতে এখন পর্যন্ত কুড়ি ওভারের ৭৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ৪১টি পরে যারা ব্যাটিং করেছে তারাই জিতেছে এবং আগে ব্যাটিং করে জিতেছে ৩৪ ম্যাচ। চলতি এশিয়া কাপে এ মাঠে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ গড়িয়েছে। আগে ব্যাটিং করে দুটি ম্যাচেই হেরেছে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা।
ব্যাটিং-বোলিং দুই দিক থেকেই শ্রীলংকার চেয়ে অভিজ্ঞ বাংলাদেশ দল। দুবাইয়ের উইকেটে স্লো বাউন্সার কিছুটা বিপজ্জনক। তবে দুই দলের লড়াইটা হবে স্পিনারদের মধ্যে। ব্যাটে-বলে লড়াই হবে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা বনাম সাকিব আল হাসানের। এই লেগিকে দেখেশুনে খেলাই মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের জন্য মঙ্গল হতে পারে। প্রথম ম্যাচে তিন পেসার মুস্তাফিজ, তাসকিন ও সাইফউদ্দিনকে নিয়ে নেমেও সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। এ ম্যাচে একজন পেসার কম নিয়ে বাড়তি একজন স্পিনার নিয়েও পারে শ্রীধরন শ্রীরামের দল। নাসুম-মিরাজদের মধ্যে কারো সুযোগ হতে পারে একাদশে।
শ্রীলংকার বোলিং আক্রমণের চেয়ে ব্যাটিং অর্ডার বিপজ্জনক হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। সুপার ফোরে উঠতে হলে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই সেরা নৈপুণ্য দেখাতে হবে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

