সরাসরি রাশিয়া থেকে ডিজেল ও জেট ফুয়েল কেনার পরিকল্পনা

আরো পড়ুন

বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বগতি থেকে রেহাই পেতে সরাসরি রাশিয়ার কাছ থেকে কম দামে ডিজেল ও জেট ফুয়েল কেনার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রসনেফট ওয়েল বাংলাদেশে ক্রুড তেলের পরিবর্তে পরিশোধিত তেল রফতানির নতুন প্রস্তাব দেয়ার পর এই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

রসনেফট প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম চাইছে ৫৯ মার্কিন ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দাম।

বিষয়টির সংবেদনশীল বিবেচনায় নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিপিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমরা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে এই প্রস্তাবটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমের দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিধিনিষেধের প্রভাব কমিয়ে অর্থনীতির চাকা সকল রাখতে তেল রফতানির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে মস্কো। এ ক্ষেত্রে পরিবহনের ঝুঁকি ও খরচকেও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

জুনে রাশিয়ার কাছ থেকে মূল্য ছাড়ে তেল কেনার প্রস্তাব পেলেও ভারত বা চীনের মতো তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া বাংলাদেশ দেয়নি। এর মূল কারণ, বাংলাদেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ক্রুড তেল পরিশোধনের সক্ষম।

তবে সম্প্রতি রসনেফট ওয়েল বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।

বিপিসির কর্মকর্তা আরো জানান, বিপিসি ও ইস্টার্ন রিফাইনারির কারিগরি বিশেষজ্ঞরা এখন রাশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন।

রসনেফট ওয়েল ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েল স্পেসিফিকেশন পাঠিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এই আইটেমগুলো আমাদের প্রথাগত ক্রুড ওয়েলের সঙ্গে কম্প্যাটিবল কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

রসনেফটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত শুক্রবারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত থাকা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রসনেফটের পাঠানো পরিশোধিত তেলের স্পেসিফিকেশনে উচ্চ মাত্রার সালফার থাকার কথা বলা হয়েছে।

এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ বিপিসি ও রসনেফট ওয়েলের কর্মকর্তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আবারো বৈঠক করবেন।

তিনি আরো জানান, আমরা এ বিষয়টি রসনেফটকে অবহিত করেছি। তারা পরবর্তী বৈঠকে আমাদেরকে বিস্তারিত জানাবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ লোকমান জানান, বর্তমানে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা ডিজেলের সঙ্গে রুশ ডিজেলের স্পেসিফিকেশনের বেশ মিল রয়েছে। আমরা অন্যান্য কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ