গত সপ্তাহে চিনির দাম বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। ওই প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার আগেই বাজারে বেড়ে গেছে চিনির দাম।
দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। একইভাবে ডিমের দাম বেড়েই চলছে। রবিবার পাইকারি বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা। খুচরা বাজারে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। এ হিসেবে একটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৪ টাকা। রাজধানীর কাওরান বাজারে পাইকারি দামে চিনি বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা কেজিতে।
নুরজাহান স্টোরের বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত সপ্তাহে এসব দোকানে পাইকারি দামে চিনি বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ৮১ থেকে ৮২ টাকায়। গত বৃহস্পতিবার দাম ছিল ৮৩ থেকে ৮৫ টাকা।
আর রবিবার দাম বেড়ে ৯০ টাকায় উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে চিনির সরবরাহ কম থাকায় চিনির বাজারে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টিসিবির গতকালের বাজারদরের তালিকাতেও চিনির দাম বেড়েছে। টিসিবির হিসেবে, ঢাকার বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮২ থেকে ৯০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগেও ৮০ থেকে ৮২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে টিসিবির হিসেবে চিনির দাম বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা।
শ্যামলী কাজী অফিস মোড়ে অবস্থিত মৌসুমী জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতি ৫০ কেজি চিনির বস্তায় দাম বেড়েছে প্রায় ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি করছি। কেন বাজারে দাম অস্থিতিশীল? এই বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে চিনির সংকট। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য মিলছে না। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলেও পরিবহন খরচ বেড়েছে। ওদিকে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও।
কাওরান বাজারের ভাই ভাই এগ শপের স্বত্বাধিকারী শম্ভু চক্রবর্তী বলেন, ১০০ পিস লাল ফার্মের ডিম শনিবার ছিল ১২শ’ টাকা। একদিনের ব্যবধানে রবিবার তা বেড়ে হয়েছে ১২শ’ ৮০ টাকা। প্রতি ডজনের হিসাবে যা বেড়েছে ৯ টাকা ৬০ পয়সা। সাদা ফার্মের ডিম এখন হয়েছে ১২শ’ টাকা, গতকাল যা ছিল ১১শ’ ৭০ টাকা। প্রতি ডজনে বেড়েছে ৩ টাকা ৬০ পয়সা। ডিমের সংকটের কারণেই বাজার এমন অস্থিতিশীল অবস্থা। হাঁসের ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
নূরজাহান স্টোরের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত শনিবার প্রতি হালি ডিম পাইকারি ৪৮ টাকায় বিক্রি করেছি, যা ছিল প্রতি ডজনে ১৪৪ টাকা। তা বেড়ে হয়েছে ১৫৪ টাকা। খুচরা বাজার শ্যামলীর ২ নম্বর রোডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোকলেস মিয়া বলেন, ১৫ বছর ধরে ব্যবসা করছি, এই অবস্থা কখনোই দেখিনি।

