নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিয়মে ভোট বাতিলসহ আরপিও সংশোধনে একগুচ্ছ প্রস্তাব

আরো পড়ুন

নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে প্রমাণিত হলে ভোট বাতিলসহ এক গুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-আরপিও সংশোধনের এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব রবিবার (৭ আগস্ট) কমিশন সভায় অনুমোদন হয়েছে। সরকার চাইলে আইন সংশোধন হতে পারে। সোমবার (৮ আগস্ট) তা ভোটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনার রাশিদা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সংলাপের আগেই আমরা সংস্কার প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করে ফেলেছিলাম। তবে সংলাপের জন্য সেই ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো স্থগিত করা হয়। সংলাপের আলোকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সংযুক্ত করে আমরা ফাইল পাঠিয়ে দিয়েছি।

ইসি সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত সংশোধনগুলো সম্পন্ন হলে আগামীতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোট করা সম্ভব হবে। ভোটের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।

আরপিওর প্রস্তাবিত খসড়ার বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, নির্বাচন নিয়ে যেকোনো পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে প্রমাণিত হলে ভোট বাতিল, নির্বাচনী কাজে অবৈধভাবে বাধা ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার যোগসাজশ এবং পোলিং এজেন্টদের ভীতি প্রদর্শন বা বাধার ঘটনা দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়াও রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়াসহ বেশ কিছু সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ফ্রেব্রুয়ারিতে দেশের নির্বাচনব্যবস্থার দায়িত্বভার গ্রহণ করে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এর ছয় মাসের মধ্যে আরপিও সংশোধনের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এর আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিশন।

আরপিওতে কিছু ধারার প্রসঙ্গ টেনে কমিশনার রাশিদা সুলতানা বলেছেন, ধারায় অপরাধের বর্ণনা থাকলেও শাস্তির বর্ণনা নেই। এবার তা সংযুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভোট কেন্দ্রের বাইরেও যেন ভোটার ও এজেন্টরা নিরাপদে থাকে সে বিষয়টি সংযুক্ত করা হবে। তাতে করে ভোটাররা যাতে অবাধে কেন্দ্রে আসতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বলেন, নির্বাচনের যেকোনো মুহূর্তে পেশিশক্তি বা অন্যবিধ যেকোনো কারণে নির্বাচন বন্ধ/বাতিল জন্য এ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিধির অধীনে কারো প্রার্থিতা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেন নতুন করে ওই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সেজন্যও প্রস্তাব রয়েছে।

এছাড়া কোনো ব্যক্তি অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচনী কাজে বাধা দিলে বা বাধার চেষ্টা করলে শাস্তির আওতায় আনতে ৪৪ অনুচ্ছেদে উপধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তা অশোক জানান, দায়িত্বশীল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার অবহেলা বা দায়ীদের পাশাপাশি প্রভাব বিস্তারকারীদের সাজার প্রস্তাব; ভোট গণনার বিবরণী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও এজেন্টদের দেয়া বাধ্যতামূলক করা, প্রার্থীদের আয়কর সনদ জমা দেওয়া এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন খেলাপি বিল ও ঋণ পরিশোধ করেই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা সংক্রান্ত প্রস্তাবও করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ