আগামীকাল সোমবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে যশোর শিক্ষা বোর্ডে সিবিএ নির্বাচন। দুই বছরের মাথায় নির্বাচন হওয়ার কারণে সিবিএ নেতৃবৃন্দসহ কর্মচারীদের মাঝে উৎসব উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্যানেলের প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্যানেল দুটি হচ্ছে এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (হরিণ) মার্কা ও কর্মচারী ইউনিয়ন (দোয়াত কলম) মার্কা।
বোর্ডের চেক জালিয়াতির ঘটনাকে ইস্যু করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এক প্যানেলের প্রার্থীদের বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘তারা নির্বাচনে বিজয়ী হলে চেক জালিয়াতির ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের মুখোশ সবার সামনে উন্মোচন করা হবে। সেই সাথে বোর্ডে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হবে।’
প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক প্যানেল দোয়াতকলম মার্কা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘তারা বিজয়ী হলে কর্মচারীদের কল্যাণে ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।’
দোয়াতকলম মার্কার কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা আট দফা দাবিগুলো হলো, দ্রুততম সময়ে বোর্ডের শুন্য পদে জনবল নিয়োগের ব্যবস্থাকরণ, কর্মচারীদের পোষ্যদের যোগ্যতানুযায়ী জরুরী ভিত্তিতে চাকরির ব্যবস্থা, পদোন্নতিযোগ্য কর্মচারীদের দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পদ পরিবর্তন করে সম্মানজনক পদে উন্নীতকরণ, সহজ শর্তে সকল প্রকার ঋণের ব্যবস্থা, কর্মচারীদের চলমান অর্থনৈতিক সুবিধাদি নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সব জটিলতা নিরসনের জন্য কাজ করা, পেনশন হোল্ডারদের পেনশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বর্তমান জটিলতা নিরসন ও তাদের জন্য স্থায়ী বিশ্রামাগার প্রস্তুতকরণ এবং কর্মচারীদের ভোটের অধিকার সংরক্ষণে আন্তরিকতার সাথে কাজ করা হবে।
হরিণ মার্কার এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ‘তাদের নেতৃবৃন্দের হাতে বোর্ডের ৭ কোটি টাকার চেক জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এ ঘটনা তারাই মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করেছেন, যাতে করে মুলহোতা রক্ষা না পায়।’
এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুর রফিকের হাতে চেকজালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। অডিটের সময় তার উপস্থিতির কারণেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেই সাথে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবসময় আন্দোলন করে যাচ্ছি। অপর পক্ষ ওই সব দুর্নীতি বাজদের সমর্থন দিয়েছে। ২০২০ সালে নির্বাচন হলে তারা (প্রতিদ্বন্দ্বিরা) নির্বাচিত হলে চেকজালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যেতো।’
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হুমায়ুন কবীর উজ্জল বলেন, ‘২০২০ সালে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে শ্রীতল কুমার দাস নামে এক পরিচ্ছন্ন কর্মীকে ওই সময়কার চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সাময়িক বরখাস্ত করেন। চেয়ারম্যান কয়েকজন ভোটারকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে। এভাবে প্রতিপক্ষে জয়ের জন্য কৌশলে ভোটের ক্যাম্পিং করে। এসব কারণে কর্মচারীদের অনুরোধে ভোট বন্ধ করতে হয়েছে। ওই চেয়ারম্যানের সময় চেকজালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এর বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সোচ্চার থেকেছি বলে ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু অপরপক্ষ দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের পক্ষে থেকে দুই বছর অলিখিত ক্ষমতায় থেকেছে।’
দোয়াতকলম মার্কার কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাকিব হাসান বলেন, দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় অফিসে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। ভোটাররাও ভোট দিতে ইচ্ছুক। ভোট না হলে ভাল কাজ করা সম্ভবাবনা। নির্বাচনকে সামনে রেখে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে বলবে। যারাই নির্বাচনে জিতবে, সবাই মিলে মিশে কাজ করবো। আমি কর্মচারীদের কল্যাণে সর্বদা নিবেদিত থাকবো।

