এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে কিছু না জানিয়েই গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত গ্যাসলাইনের জন্য প্রিপেইড মিটার ভাড়া ৪০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে তিতাস।
এর ফলে তিন লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড গ্রাহকের কাছ থেকে মাসে এক কোটি ২৮ লাখ টাকা বাড়তি আদায় করবে এই গ্যাস বিতরণ কোম্পানিটি।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা বলছেন, গ্যাস বিলের বাইরে এভাবে মিটার ভাড়া বাবদ টাকা নেয়ার এখতিয়ার নেই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির।
নতুন দাম ঘোষণায় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বাসাবাড়ির মিটারবিহীন গ্যাসের দাম ১১ শতাংশ বাড়ানো হলেও; যারা প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন সেই গ্রাহকদের বিল বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।
গৃহস্থালিতে যারা প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন, তাদের প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ১২ দশমিক ৬০ টাকা দিতে হলেও এখন দিতে হবে ১৮ টাকা, যা ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।
কিন্তু সেখানেই সন্তুষ্ট থাকেনি তিতাস। মিটার ব্যবহারকারীদের মাসিক ভাড়া ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০০ টাকা। অর্থাৎ বাড়ানো হয়েছে ৪০ টাকা।
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়েই এই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী।
তবে তিতাসের মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, গ্যাসের দাম কমিশন নির্ধারণ করলেও মিটার ভাড়া নির্ধারণ করেছে তিতাস বোর্ড। তিনি বলেন, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির দামের সাথে মিলিয়ে এই দাম ঠিক করা হয়েছে।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম জানান, গ্যাসের বিতরণ খরচের মধ্যেই মিটার ভাড়া যুক্ত থাকে। মিটার ভাড়া নেয়াটাই যেখানে অন্যায় সেখানে তা ইচ্ছামতো বাড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
গ্যাস বিতরণ খাতের এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি আরো বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

