বাঘারপাড়া: যশোরের বাঘারপাড়ায় মাত্র তিনশ মিটার সড়কে ভগ্নদশার কারণে ভোগান্তিতে ১১ গ্রামের পথচারীরা। উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নে ভিটাবল্লা থেকে হাতিয়াড়া মোড় (নড়াইল সদরের হাতিয়াড়া মোড়) সড়কের শেষ পূর্ব অংশের তিনশ মিটারের ভগ্নদশার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। নির্মাণের ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সংস্কার হয়নি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এ অংশটি।
যশোরের বাঘারপাড়া ও নড়াইল সদর উপজেলার ১১টি (ঘোড়ানাছ, দোগাছি,কমলাপুর, রঘুরামপুর, বাকড়ী, কিসমত বাকড়ী, গুয়াখোলা, হাতিয়াড়া, বাকলী, মালিয়াট ও বেনাহাটি) গ্রাম এগারোখান। এই এগারোখানের বাকড়ীতে শতাব্দী প্রাচীন ‘নতুন হাট’ নামে একটি হাট আছে। যেখানে প্রতি বুধ ও রবিবার হাট বসে। প্রতি হাটে ১১ গ্রামের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে হাটে আসতে ভোগান্তিতে পড়েন। এ ছাড়াও এ এলাকায় ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। এ সকল স্কুলে এগারোখানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা বাইসাইকেল করে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে সেই সকল শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তীতে পড়েন। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে স্কুলেই পৌঁছানো সম্ভব হয় না কমলমতি এ শিশুদের। এ ছাড়াও ভাঙ্গা সড়কের কারণে সমস্যায় আছেন এ এলাকার কৃষকরা। তারা তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা থেকে শুরু করে হাটে নেয়ার সময়ও ঘটেছে অসংখ্যা দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ এ তিনশ মিটার পাকা সড়কের ৪ জায়গায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ৮ ফুট প্রস্তের এই রাস্তার কোথাও অর্ধেকে মুল মাটি বেরিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। যানবাহন চালকেরা অতি সাবধানে পার হচ্ছেন খানা-খন্দের এ অংশটি।
রাস্তার ভগ্নদশার বিষয়ে কথা হয় নড়াইল সদরের গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরিক্ষার্থী অঙ্কিতা ভৌমিকের সাথে। সে জানায়, ‘আমার বাড়ি ঘোড়ানাছ গ্রামে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বাইসাইকেল করে স্কুলে যাতায়াত করি। বৃষ্টির হলেই গর্ত রাস্তায় জল জমে যায়, তাই গর্তের জায়গাটার গভীরতা বোঝা যায় না। এ রকম পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে গেছে অনেকবার। স্কুলে যাওয়া সে দিন আর হয়নি’। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের কথাও জানান অঙ্কিতা।
বাকড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রীনা বিশ্বাস। তিনি বাকলী গ্রাম থেকে ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।
তিনি বলেন, ‘এতটুকু সড়কের ৪ জায়গায় গর্তের কারণে অনেক ভ্যান চালক যেতে চায় না । তাই অনেক সময় পায়ে হেঁটে সময়মত স্কুলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না’।
বেনাহাটি গ্রামের সবজী ব্যবসায়ী ও কৃষক পলাশ ঘোষ জানান, ‘আমি প্রতি হাটে বাকড়ীর নতুন হাটে সবজী নিয়ে আসি। এই ভাঙ্গা রাস্তার আমার ভ্যান উল্টে অনেক সবজী নষ্ট হয়ে গেছে। সেদিন আমার ব্যবসায়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে’।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের উপজেলা শাখা সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়াড়া মোড় থেকে ভিটাবল্লা পর্যন্ত পাকা সড়কটির দৈর্ঘ সাত কিলোমিটার। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থবছরে কয়েকটি ধাপে শেষ হয় এ সড়কটি। এরপর ২০২০ সালে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ভিটাবল্লা থেকে বাকড়ীর ঘোষবাড়ি পর্যন্ত সংস্কার হলেও অদৃশ্য কারনে শেষ তিনশ মিটার সড়কে সংস্কারের কাজ বাকি রয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আগামী অর্থ বছরে রাস্তাটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। প্রতি বছর রাস্তা সংস্কার বাবদ উপজেলায় যে বরাদ্দ থাকে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুলো শেষ করতে টাকা শেষ হয়ে যায়। তাই তিনশ মিটারের কাজ হয়নি’।

