মুনতাসির আল ইমরান: সরকারি বিধি অনুযায়ি সরকারি কর্মচারি প্রতিবন্ধী সন্তারা পিতার মৃত্যুর পর আজীবন পেনশন পাবে। শিউলী রানী বিশ্বাস জন্ম বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার সত্বেও আবেদন করেও পাচ্ছে না পেনশন। তার পরিবার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীর সকল কাগজপত্র নিয়ে এ দপ্তর থেকে সে দপ্তরে দৌড়া-দৌড়ি করছে। তবুও সুফল মিলছে না।
শিউলী রানী বিশ্বাসের পিতা যশোর পোস্টার অপারেটর মৃত বিনীত কুমার বিশ্বাস। ২০০৯ সালে পরলোকগমন করেন। তার পর থেকে শিউলী রানী বিশ্বাস ভাই-বোনদের সাথে যশোর শহরের বিমান বন্দর সড়কের পুরাতন কসবাতে বসবাস করেন। তার বর্তমানে বয়স ৬০ বছর। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই বড়। গোসল, বাথরুম, খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরাসহ সকল প্রকারে প্রয়োজনীয় কাজ একা করতে পারে না সে। তাই অন্যের উপরে নিভর করতে হয়। বর্তমানে রোগশোক ও বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন তিনি।
ভাই অরুপ কুমার বিশ্বাস জুয়েল বলেন, ‘সরকারি বিধি ১এর৫ অনুচ্ছেদ ৩.৩.০১ এবং ৩.০৩ (ক) এর ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মচারি প্রতিবন্ধী সন্তান হিসাবে আজীবন পেশন পাবে। কিন্তু যশোরে ডেপুটি পোষ্ট মাষ্টার জেনারেলে অসহযোগীতায় বোন শিউলী রানী বিশ্বাস প্রতিবন্ধী হওয়ার সর্ত্বে পেনশন পাচ্ছে না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ১৭ তারিখে আমরা প্রতিবন্ধীর সকল কাগজপত্র দিয়ে বাংলাদেশ ডাক-বিভাগের মহা-পরিচালক, খুলনা দক্ষিণ অঞ্চল পোষ্ট মাষ্টার জেনারেল, সেগুন বাগিচা প্রধান হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা ও সরকারে অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল বরাবর আবেদন করি। এখনও তার কোন সুফল পায়নি।’
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বোনের অনেক বয়স হয়েছে। সে অন্যের সাহায্য বাদে একা চলাফেরা করতে পারে না। তার শরীরে বিভিন্ন রোগে বাসাবেধেছে। তার ওষুধ ও দেখাশোনার জন্য লোক নিয়োগের প্রয়োজন। দরিদ্র হওয়ায় আমরা তার খাওয়া-দাওয়া, ওষুধপত্রের সঠিক ব্যবস্থা করতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আমার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বোনের পাশে দাড়ানোর।
যশোরে ডেপুটি পোষ্ট মাষ্টার জেনারেলে মিরাজুল হক ঢাকামেইলকে বলেন, ‘আইনগত ভাবে আবেদন বৈধ হলে অবশ্যই শিউলী রানী বিশ্বাস পেনশন পাবেন।’
জাগো/এমআই

