দেশের স্বার্থরক্ষা এবং সম্পর্ক উন্নয়নে দুই কূটনীতিককে ‘বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক উৎকর্ষ’ পদক দেয়া হয়েছে। পোল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন ও ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকিকে এ পুরস্কার দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ৮ তলা ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে কূটনীতিকদের এ পুরস্কার প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন দুই কূটনীতিকের হাতে পদক তুলে দেন। সুলতানা লায়লা সশরীরে পুরস্কার গ্রহণ করেন। অন্যদিকে বর্তমানে টোকিওতে অবস্থান করায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতোর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে কয়েক হাজার বাংলাদেশি ইউক্রেন ছেড়ে পোল্যান্ড ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে সুলতানা লায়লা হোসেন অসাধারণ অবদান রাখায় তাকে এবং তার দলকে (দূতাবাস) এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
পুরস্কার পাওয়া সুলতানা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশিদের দেশে এবং পোল্যান্ড নিয়ে যাওয়া খুব চ্যালেঞ্জের ছিল। পুরো দূতাবাসের সহযোগিতায় এই কঠিন কাজ করা সম্ভব হয়েছে। ওই সময় ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেছে দূতাবাসের কর্মকর্তারা। পোল্যান্ড সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কেননা তাদের সহযোগিতা না পেলে পাসপোর্ট ছাড়া ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশিদের নেওয়া সম্ভব হতো না।
অন্যদিকে ইতো নাওকিও ঢাকা-টোকিও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
ভার্চুয়ালি প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা এমন একটা মুহূর্ত যেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। পুরস্কারে ভূষিত হয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। জাপান ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আমাদের সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিতে চাই। জাপান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ইন্দো-প্যাসিফিকে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত বছর এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। প্রথমবার এ পুরস্কার পান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ আল মেহরি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্বব্যাপী বঙ্গবন্ধু কর্নার’ নামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

