২৭ পণ্য আমদানিতে ঋণ নয়, প্রজ্ঞাপন জারি

আরো পড়ুন

জ্বালানি তেল, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেছে। ফলে আমদানি খরচ বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। সে তুলনায় বাড়েনি রফতানি আয়। আবার প্রবাসী আয়ও কমেছে। ফলে ডলারসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো ডলারপ্রতি ১০২ টাকা দিয়েও প্রবাসী আয় এনেছে। তবে আমদানি দায় মেটাতে কিছুটা কম দামে ডলার বিক্রি করছে, কারণ রফতানি আয়ের নগদায়ন হচ্ছে ৯৫ থেকে ৯৬ টাকা দরে।

এ পরিস্থিতিতে চলমান ডলারসংকট ঠেকাতে দামি গাড়ি, প্রসাধনী, স্বর্ণালংকার, তৈরি পোশাক, গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক সামগ্রী বা হোম অ্যাপ্লায়েন্স, পানীয়সহ ২৭ ধরনের পণ্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করতে আমদানি পর্যায়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব পণ্য আমদানিতে এখন থেকে আমদানিকারকেরা ব্যাংকঋণ পাবে না। আগে ঋণ অনুমোদন হয়ে থাকলে ব্যাংকগুলো সেটাও ব্যবহার করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার রাতে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে বিলাসজাতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ৭৫ থেকে ১০০ শতাংশ মার্জিন প্রযোজ্য হবে। ফলে এসব পণ্য আমদানিতে পুরো বা ৭৫ শতাংশ অর্থ আগেই ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এসব পণ্য আমদানির জন্য ব্যাংক কোনো ধরনের ঋণ দিতে পারবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, করোনার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এবং বহির্বিশ্বে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন হার পুনর্নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হলো।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোটরকার (সেডানকার, এসইউভি, এমপিভি ইত্যাদি), ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স, স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার, মূল্যবান ধাতু ও মুক্তা, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রসাধনী, আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী, ফল ও ফুল, নন সিরিয়াল ফুড (যেমন অশস্য খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য ও পানীয়, যেমন টিনজাত খাদ্য, চকলেট, বিস্কুট, জুস, সফট ড্রিংকস ইতাদি), অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়, তামাক, তামাকজাত বা এর বিকল্প পণ্যসহ অন্যান্য বিলাসজাতীয় পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে।

এসব পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলার বিপরীতে প্রয়োজনীয় মার্জিন গ্রাহকের নিজস্ব উৎস থেকে জমা করতে হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আমদানিকারকের অনুকূলে বিদ্যমান ঋণ হিসাব থেকে অথবা নতুন কোনো ঋণ হিসাব সৃষ্টির মাধ্যমে আমদানি ঋণপত্র খোলার বিপরীতে কোনো ধরনের মার্জিন প্রদান করা যাবে না।

এ ছাড়া শিশুখাদ্য, অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক স্বীকৃত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ–সরঞ্জামসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, উৎপাদনমুখী স্থানীয় শিল্প ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরাসরি আমদানিকৃত মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল, কৃষি খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য ও সরকারি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ব্যতীত অন্য সব পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংকঋণ বন্ধ করায় নিশ্চয়ই আমদানি খরচের চাপ কিছুটা কমবে। তবে এসব পণ্য আমদানির খরচ কত, তা বড় বিষয়। এর প্রভাব জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ