সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও প্রবীণরা সমাজের বোঝা নয়, বরং তারা সম্পদ। আর এই সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও প্রবীণরা যাতে সমাজের অবহেলার পাত্র না হয়, তার জন্য যশোরের নির্মিত হয়েছে শিশু ও প্রবীণদের সমন্বিতভাবে তৈরি প্রবীণ ও শিশু নিবাস ‘আমাদের বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটিতে এলাকার শতাধিক ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
যশোর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার নাটুয়াপাড়া সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যাগে এটি নির্মিত হয়েছে। গ্রামীণ মনোরম পরিবেশে ১ একর ৫ শতক জমির উপরে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানে ৪ তালা ভবনে ১৫০জন বসবাস করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিয়ার রহমান।
তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত প্রবীণ ও শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য, ব্যামাগার, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় ৯ বিঘা জমিতে ৫টি মাছের খামার, হাস মুরগি ও গরু-ছাগালের খামার ও ১৭ বিঘা জমিতে ধান সবজি চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রতিষ্ঠানে সরকারে অশিদারিত ৮০ শতংশ এবং জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের ২০শতাংশ। নিধারিত আবাসনের ৩০ শতাংশ সম্পূন্ন বিনামূল্যে এবং নির্ধারিত ৭০ শতাংশ আবাসেন অর্থের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

প্রতিষ্ঠানের কেয়ারটেকার জালাল উদ্দিন বলেন, প্রবীণ ও শিশু নিবাস ‘আমাদের বাড়ি’ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হয়ে হৈবতপুর ইউনিয়নের রাস্তাঘাট উন্নত হয়েছে। এলাকার অনেক দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।’
কর্মচারি রাজু কুমার বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব খারাপ সময় পার করছিলাম। ১০ মাস হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক ভালো আছি। আমার মতো অনেক বেকার ছেলে-মেয়েদের এখানের চাকরি হয়ছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিয়ার রহমান বলেন, যশোরের সন্তান ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) প্রফেসার ডাঃ এমএ রশিদ এই প্রতিষ্ঠানটি চেয়ারম্যান। তার ঐকান্তি পরিশ্রমে ফসল এই প্রবীণ ও শিশু নিবাস ‘আমাদের বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে শতাধিক বেকারদের। সমাজ কল্যাণমন্ত্রণালয় কয়েক মাসেন মধ্যে জিএমএসএস ফাউন্ডেশনকে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠানটি হস্তান্তর করবে। এখানে থাকার জন্য অনেকে যোগাযোগ করছে। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে শিশু ও প্রবীণদের উঠানো হবে।
তবে প্রতিষ্ঠানে এসে স্বস্তি পাবেন প্রবীণরা, তেমনি শিশুরাও বিভিন্ন বিষয়ের উপরে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

