পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে দেশি-বিদেশি অতিথিদের পাশাপাশি বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে গণভবনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে যারা বেশি বিরোধিতা করেছিল আগে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ২৫ জুন যানবাহন চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেয়া হবে। সেদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকেই তুমুল আলোচনা শুরু হয় পদ্মা সেতু নিয়ে। ক্ষমতায় আসার দুই বছর পর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি করার পর থেকে এক দিনে যেমন আশাবাদ তৈরি হয় তেমনি বিশ্বব্যাংক দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ তোলার পর শুরু হয় রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ।
বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না। সরকার পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক আলোচনায় বিএনপি নেত্রীর দেয়া বক্তব্য তুমুল সমালোচনার জন্য দেয়। সেদিন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের আমলে পদ্মা সেতু হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। অনেক রিস্ক আছে।
এরপর বিভিন্ন সময় পদ্মা সেতু হবে না বলে আলোচনায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতারা।
আগামী মাসে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হতে যাওয়া পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব। যারা বেশি বিরুদ্ধে বলেছে, তাদেরকে আগে আমন্ত্রণ জানাব।
পদ্মা নদীর নামেই সেতু হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পদ্মা সেতু পদ্মা নদীর নামেই হবে। এই সেতু অন্য কারও নামে আমি দেবো না। বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য কারও নাম সংযোজন হবে না।

