দুই লাখ টাকা করে পেলো পাঁচ হাজার স্কুল

আরো পড়ুন

সারাদেশের পাঁচ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দুই লাখ টাকা করে দিয়েছে সরকার। স্কুলের ভবন, ওয়াশ ব্লকের টয়লেটের ক্ষতিগ্রস্ত প্লাস্টার মেরামত, ছাদের আস্তর মেরামত, দরজা, জানালা, বেঞ্চ, চেয়ার, কলাপসিবল গেট মেরামত, স্কুলের ভবনের দরজা জানালা রঙ করাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র মেরামত কাজে এ টাকা দেয়া হয়েছে।

রবিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অধিদফতর জানিয়েছে, বরদ্দ পাওয়া স্কুলগুলোকে এ টাকায় বিদ্যালয় ভবন, ওয়াশব্লক এবং টয়লেটের ক্ষতিগ্রস্ত প্লাস্টার মেরামত; দরজা, জানালা, বেঞ্চ, চেয়ার, কলাপসিবল গেট ইত্যাদি মেরামত; ছাদের সিলিং বা আস্তর মেরামত; ভবনের ওয়াল, কলাম, বিম এবং ছাদের ফাটল মেরামত; বিদ্যালয় ভবনের দরজা, জানালা রঙ করা; টাইলস (যদি থাকে), সিড়ির রেলিং, বিদ্যালয়ের গেট এবং ড্রেনেজ সিস্টেম মেরামত; ব্ল্যাক বোর্ড প্লাস্টার ও রঙ করা; টয়লেটের পাইপ, ড্রেন, বেসিন, কমোড, প্যান ইত্যাদি মেরামত বা প্রতিস্থাপন; টিউবওয়েলের প্লাটফর্ম মেরামত এবং টিউবওয়েলের যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, বিদ্যালয় ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা যেমন সুইচ, ওয়্যারিং, ফ্যান ইত্যাদি মেরামত; বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট, বিদ্যালয় ভবনের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোন মেরামত ও বিদ্যালয়ের চাহিদাভিত্তিক অন্যান্য মেরামত করা যাবে।

এ টাকা ব্যয়ে কিছু শর্ত দিয়েছে অধিদফতর।

অধিদফতর বলছে, এসব মাইনর মেরামত কার্যক্রম বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে। কাজ শুরুর আগে অবশ্যই উপজেলা প্রকৌশলীর কাছ থেকে মেরামত কাজের প্রাক্কলন প্রস্তুত করে উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন নিয়ে মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সংশিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএমসিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন। বরাদ্দকৃত টাকায় বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার নিরিখে এসব মেরামত কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।

অধিদফতর জানিয়েছে, মেরামতের জন্য যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে তা মেরামতের আগে ছবি বা ভিডিও করতে হবে এবং মেরামতের পর ছবি ও ডিডিও করে রাখতে হবে। সেসব ছবি ও ভিডিও রেজিস্ট্রি করে সংরক্ষণ করতে হবে।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি বিদ্যালয়ে কোন কোন খাতে মেরামত প্রয়োজন তার তালিকা প্রস্তুত করে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে জমা দেবেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাদ্দ প্রাপ্ত বিদ্যালয়ের মেরামতের তালিকা সংগ্রহ করে একত্রে প্রাক্কলন প্রস্তাব তৈরির জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর (এলজিইডি) কাছে পাঠাবেন। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কর্তৃক প্রাক্কলন প্রস্তাব প্রস্তুত করার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠাবেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রাক্কলন প্রস্তাব মহানগর বা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটিতে অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

অধিদফতর আরো বলছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে মেরামতের প্রয়োজন থাকলে অথবা রাজস্বখাত থেকে বর্তমান অর্থবছরে বিদ্যালয়ে মেরামত বাবদ বরাদ্দ পেয়ে থাকলে বা এলজিইডি কর্তৃক মেজর মেরামতের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান থাকলে বরাদ্দকৃত এ টাকা ব্যয় করা যাবে না। এক্ষেত্রে বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থ সমর্পণ করতে হবে।

নিরীক্ষার (অডিট) জন্য বিল ও ভাউচার এবং প্রাক্কলনের কপি উপজেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই বিল-ভাউচার ও প্রাক্কলনের এক কপি নিজ বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করবেন। বিদ্যালয় মেরামতের টাকা উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে অনুমোদন ছাড়া অর্থ ব্যয় করা যাবে না। এ টাকা অবশ্যই ৩০ জুনের মধ্যে ব্যয় করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতির প্রতিবেদন ৩০ জুন অধিদপ্তরে ইমেইলে পাঠাতে হবে শিক্ষা কর্মকর্তাদের। টাকা খরচের বিষয়ে সব আইন ও বিধিবিধান এবং ভ্যাট বা আয়কর কর্তনসহ সরকারের প্রচলিত সব আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে বিল পাস হওয়ার পর উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা কোনভাবেই নগদ টাকার মাধ্যমে বিদ্যালয় পর্যায়ে অর্থ দিতে পারবেন না। অবশ্যই বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর বা ক্রস চেকের মাধ্যমে তা দিতে হবে। মেরামত কার্যক্রমে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ স্বচ্ছতা অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়মের জন্য ডিডিও দায়ী থাকবেন।

চিঠিটির কপি সব প্রধান শিক্ষককে আবশ্যিকভাবে বিতরণ করতে হবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের। এক্ষেত্রে কোন ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ