চুয়াডাঙ্গায় মনিশা আক্তার মিমি (২৬) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে জেলা শহরের পলাশপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মিম খাতুন চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের পলাশপাড়ার সৌদি প্রবাসী লিটন হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার জগতি এলাকার মেয়ে মিম। ১৪ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে চুয়াডাঙ্গার পলাশপাড়ার লিটন হোসেনের সঙ্গে বিবাহ হয় তার। সাংসারিক জীবনে মাহিন (১১) নামের একটি সন্তানও আছে তাদের। বেশিরভাগ সময় মিম মাথার অসুখে ভুগতেন। মিমের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়ে জানতে পেরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালে নেয়। পরে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশী রোমেছা বেগম বলেন, এদিকে মিমের শাশুড়ির চিৎকারে আমিসহ পাড়ার আরো অনেকে তাদের বাড়িতে যেয়ে জানতে পারি মিম গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দিয়েছে। এসময় আমরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোমেছা বেগম আরো বলেন, শাশুড়ি ও ছেলের সঙ্গে ১০-১২ বছর ধরে পলাশপাড়ায় আমারে বাড়ির পাশের একটি টিন শেডের বাড়িতে ভাড়া থাকে ওরা। শাশুড়ির সঙ্গে মিমের কোনো সময় ঝগড়া-বিবাদ হতে দেখিনি। তবে মিম বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকতো। দুই দিন পূর্বেও সে হাপসাতালে ভর্তি ছিলো। অসুস্থতার কারণে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাসনিম আফরীন জ্যোতি বলেন, রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশীরা মিম নামের এক নারীকে জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়েছিলো। তবে জরুরি বিভাগে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তার গলায় ফাঁস দেয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে নেয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পলাশপাড়ায় এক গৃহবধূর আত্মহত্যার বিষয়ে জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

