সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ মোকাবেলায় সাতক্ষীরা উপকুলে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। সকাল থেকে জেলাজুড়ে বৃষ্টিপাত সহ দমকা হাওয়া বয়ে চলেছে।
সোমবার (৯মে) সকালে জেলা প্রশসকের সম্মেলন কক্ষে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় অশনি মোকাবেলায় ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের ২৮৭ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেখানে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ আশ্রয় গ্রহন করতে পারবেন। সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল শ্যামনগরে ১৮১ টি আশ্রয় কেন্দ্র।
এবং আশাশুনিতে ১০৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত। আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমানে শুকনা খাবার এবং ৫ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ পর্যাপ্ত সুপেয় পানি ব্যাবস্থা করা হয়েছে। উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনিতে ২ হাজার ৯৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও ৮৬ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত । জেলা প্রশাসন সব সময় যে কোন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম বলে তিনি আশ্বাস দেন।এদিকে ঘূর্নিঝড় অশনির প্রভাবে সকাল থেকে সাতক্ষীরায় হালকা ও মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে হালকা দমকা হাওয়া বয়ে চলেছে। তবে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৪৪ টি পয়েন্টে সাড়ে ৮ কি.মি. বেঁড়িবাধ চরম ঝুঁকির মধ্যে বলে জানিয়েছে উপকূলবাসী । এছাড়া ঘূর্নিঝড় যশ ও আম্ফানের প্রভাব কাটিয়ে উঠার পর অশনি নিয়ে উপকুলীয় মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে বলে জানান তারা।
সাতক্ষীরার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক জুলফিকার আলী রিপন জানান, সাতক্ষীরার উপকুলীয় অঞ্চলে ২ নং সতর্ক সংকেতের কথা বলা হয়েছে। আশনি বর্তমানে মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ২০ কি.মি. দূরের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। যেটি ভারতের অন্ধ প্রদেশে আঘাত আনার সম্ভবনা রয়েছে। তবে দিক পরিবর্তন হলে সাতক্ষীরার উপকূলে এর প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান তিনি।
কিশোর কুমার/এমআই

