আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছরই। এই ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ধরনের কাউন্সিল অধিবেশনের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ছাড়া কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া যায় না। আর এ লক্ষ্যেই আগামী ৭ মে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণভবনে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ৭ মে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হতে পারে। এছাড়াও এই বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পত্তি হবে। সবচেয়ে বেশি হলো যারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন তাদের ভাগ্য চূড়ান্ত করা। এছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদেরকে যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে থেকে সুপারিশ করা হয়েছে সেই সুপারিশগুলোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৭ মে এর বৈঠকে কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। এছাড়াও যে বিষয়গুলো নিয়ে মূলত আলোচনা হবে, তা হলো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে ৫টি এজেন্ডা প্রাধান্য পেতে পারে।
১. বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত: যারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলো, তাদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ বাস্তবায়ন করা হবে, না তাদেরকে সাধারন ক্ষমার আওতায় আনা হবে এ ব্যাপারে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদকরা বিভিন্ন বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থান এবং তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। এটি আওয়ামী লীগ সভাপতিকে উপস্থাপন করা হবে।
২. বিভিন্ন কমিটি গঠন প্রসঙ্গ: সারাদেশে জেলা উপজেলা পর্যায়ে অনিষ্পন্ন কমিটিগুলো চূড়ান্ত করেছে। এই কমিটিগুলোর গঠনে কি অবস্থা, হালনাগাদ পরিস্থিতি কি, কতটুকু অগ্রগতি হলো ইত্যাদি চূড়ান্ত করা হবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এবং যেখানে যেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, এখনো যেখানে যেখানে কাউন্টার সেই জায়গাগুলোতে দ্রুত সম্মেলন করার বিষয়টি নিয়েও কথাবার্তা বলা হবে।
৩. নােয়াখালীর প্রসঙ্গ: আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে নোয়াখালী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হিসেবে আসবে। ইতোমধ্যে একরাম চৌধুরীকে দলের নোয়াখালী কমিটি থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় অভ্যান্তরীণ কোন্দলের জের হিসেবে কাউকে কাউকে বহিষ্কার করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সুপারিশগুলোর চূড়ান্ত চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে।
৪. অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন: আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের আগেই অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন চূড়ান্ত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং এই অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনে ধাপে ধাপে কিভাবে করা যায় সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হতে পারে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে।
৫. সরকারবিরোধী নতুন আন্দোলন: বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, তারা ঈদের পর সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলন করবে। সেই চূড়ান্ত আন্দোলন মোকাবেলা করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি এবং সারাদেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে কার্যনির্বাহী কমিটিতে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, এবারের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বৈঠকের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে নিজেদের সংকটগুলোকে কাটিয়ে উঠে নতুন প্রথযাত্রার সূচনা করতে চায়।

