সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক কলেজ ছাত্রকে ডেকে এনে মারপিট করে বিবস্ত্র ভিডিও ধারন সহ মাথা মুণ্ডন করে দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা। নির্যাতনের শিকার কলেজ ছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময় (২০) তালা সদরের জাতপুর গ্রামের শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে ও জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানা যায়। রবিবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে তালা সরকারি কলেজ ছাত্রাবাসের টর্চার সেলে এঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও অভিযুক্তদের দুদিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় চরম নিরাপর্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগীর পরিবারটি। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা মামলার আসামী হওয়া পর গনমাধ্যমের চাপে পড়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আকিবকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। যদি ও ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে দায় এড়িয়ে গেছেন জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগ শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফারদিন এহসান দীপ জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি জানার পর গত মঙ্গলবার নির্যাতনের স্বীকার ওই কলেজ ছাত্রের পরিবারে পাশে তার নিরাপর্তা নিশ্চিত সহ সমাবেদনা জানাতে আমার সভাপতি এবং ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। কোন ব্যাক্তি দায় ছাত্রলীগ বহন করে না আমি চাই এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতরা যেন শাস্তি পায় বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী তন্ময় জানান, রবিবার দুপুর দেড়টার নাহিদ হাসান উৎস আমাকে মোবাইল ফোনে ডেকে কলেজের একটি রুমের ভিতরে চড় মারতে মারতে নিয়ে যায়। এরপর তালার মাঝিয়াড়া গ্রামের সৈয়দ ইদ্রিসের ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিব (২৫), হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামের গণেশ চক্রবর্তীর ছেলে উপজেলা শ্রমিক-লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী (৩২), তালা গার্লস স্কুলের পেছনের বাসিন্দা ছাত্রলীগ কর্মী জে.আর সুমন (২৫), তালার মহান্দি গ্রামের ছাত্রলীগ কর্মী জয় (২৪) ও তালা সদরের নজির শেখের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ হাসান উৎস (২৪) মিলে আমাকে মারপিট করার পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়ে উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করে। এরপর মেবাইল ফেনে আমাকে ছাড়ানো জন্য মুক্তিপন দাবী করে। ঘটনাটি জানার পর আমার চাচাতে ভাই সহ স্থানীয়রা গিয়ে আমাকে সেখান রক্ষা করে। তবে ঘটনাটি প্রেম সংগঠিত কিনা তার কোন জবাব দেয়নি তন্ময়। নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক স্থানীয় এক কলেজ ছাত্র ঘটনাটি প্রেম সংগঠিত বলে অপকটে স্বীকার করেন। এমন নেক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় একটি সচেতন মহল পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া মামলা হওয়ার পর সোমবার রাতে আসামীর ভাইয়ের সাথে নির্জন স্থানে গোপন বৈঠক করেছেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা চন্দন কুমার রায় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চন্দন রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সোমবার রাতে আসামী ধরতে গেলে আসামীর ভাইয়ের সাথে দেখা হয় সত্য, তবে সেখানে তালা সদরের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলামসহ অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কে বা কারা আমাকে আমাকে সমাজে হেও প্রতিপন্ন করাসহ মামলার তদন্ত কার্যক্রম বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে সেটি আমার বোদগম্য নয়। আসামী যেই হোক সে আইনের হাত থেকে ছাড় পাবেনা। দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন। তালা থানার ওসি আবু জিহাদ আলম ফকরুল খান জানান, আসামীদের গ্রেফতারের পুলিশের একাধিক টিম মাঠে আছে। খুবই শিগ্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে।
প্রসঙ্গতঃ গত রবিবার তালায় সরকারী কলেজের ছাত্রাবাসের টর্সার সেলে প্রেম ঘটিত কারনে শোয়েব আকিব তন্ময় এক কলেজ ছাত্রের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় শ্রমিকলীগের নেতা সহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ওই সময় তারা তন্ময়ের মাথা মন্ডন সহ বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন করে। এর পর তারা মুক্তিপন আদায়ের জন্য ভিক্টিমে মা কে ফোন দেয়। পরবর্তীতে ভিক্টিম পরিবার তাকে স্থানীয়দের সহয়তায় উদ্ধার করে। সোমবার সকালে তালা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-২০।
কিশোর কুমার/এমআই

