২৪ বছর ধরে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিমানবন্দরে প্রবেশের ডিউটি পাসও ছিলো। এই পাসটি সংগ্রহ করার আগে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তারা স্ব-শরীরে তদন্ত করেন। তাদের সবার চোখ এড়িয়ে পাস নিয়ে এতদিন মন্ত্রী-এমপিসহ ভিআইপিদের মধ্যেই ছিলেন আশীষ।
অবশেষে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার পলাতক ও চার্জশিটভুক্ত আসামি আশীষ রায় চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল মঙ্গলবার গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিমানবন্দর ও বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নানা অনুষ্ঠানে ছিলো তার অবাধ যাতায়াত। এ ছাড়া দুই রকম নামে বাংলাদেশ ও কানাডার আলাদা দুটি পাসপোর্ট ছিলো আশীষের। ২৪ বছর ধরে কীভাবে তিনি নির্বিঘ্নে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন, কীভাবেই এসবি ক্লিয়ারেন্সসহ বিমানবন্দরের ডিউটি পাস পেয়েছেন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল রাতে গ্রেফতারের পর র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ২৮ মার্চ তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। ৩০ মার্চ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস এর বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গোপন তথ্যে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
খন্দকার আল মঈন বলেন, বাসা থেকে ২৩ বোতল মদ, বেশ কিছু বিয়ার, সীসার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাসা থেকে দুজন নারীকে আটক করা হয়েছে। তার পরিবার এখানে থাকেন না। চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যায় তার সম্পৃক্ততা ও অন্যান্য ডিটেলস বুধবার বিস্তারিত জানানো যাবে।
উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে ১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর বনানীর ক্লাব ট্রামসের নিচে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তার বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ডিবি পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ওই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

