শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্রের চোখ নষ্ট, পলাতক শিক্ষকের ব্যাপারে তৎপর পুলিশ

আরো পড়ুন

ডেস্ক রিপোর্ট: যশোরের মণিরামপুরে শিক্ষকের বেতের আঘাতে আরিফুল ইসলাম (১৬) নামে এক কওমি মাদরাসা ছাত্রের চোখ যায় যায় অবস্থার বিষয়টি নজরে এসেছে প্রশাসনের।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান ও থানার ওসি নূর-ই-আলম সিদ্দিকীর। এরপর অভিযুক্ত পলাতক সেই শিক্ষক হাফিজুর রহমানের ব্যাপারে তৎপর হয় পুলিশ।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি নূর-ই-আলম বলেন, শিক্ষকের বেতের আঘাতে ছাত্রের চোখে ক্ষত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি নিয়ে ইউএনওর সাথে কথা হয়েছে। আমরা দুইজনে যৌথভাবে কাজ করছি।

ওসি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ঠিকানা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে তাকে গ্রেফতারে আমরা তৎপর হবো।

এদিকে শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন প্রকৃত ঘটনা জানতে গত বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) রাতে বুজতলার সেই হেফজ ও এতিমখানায় গেছেন। তিনি আরিফুলের চিকিৎসার খবর নেন। ছাত্রদের প্রতি সহনশীল হতে এ সময় তিনি শিক্ষকদের অনুরোধ জানান।

মণিরামপুরের শ্যামকুড়ের বুজতলা ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হাফিজীয়া মাদরাসা ও এতিম খানার হেফজ বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম না পড়ে বসে থাকার অপরাধে গত সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাদরাসার হাফেজ হাফিজুর রহমান তাকে মারপিট করেন। একপর্যায়ে শিক্ষকের বেতের আঘাতে আরিফুলের চশমা ভেঙে কাচ ভিতরে ঢুকে বাম চোখের কর্ণিয়া (কালো অংশ) তিন ভাগ হয়ে যায়।

এরপর থেকে ওই কিশোর ঢাকা ইস্পাহানি ইসলামী চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার চোখের অবস্থা ভাল নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এদিকে এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক হাফিজুর রহমান মাদরাসা ছেড়ে পালিয়েছেন। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ