যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ডায়াবেটিসের ওষুধ না পেয়ে দুর্ভোগে রোগীরা

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের সরবরাহকৃত সরকারি ওষুধ গ্লিকাজাইড ও মেটফরমিন (কমেট) রোগীরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে গরীব রোগীরা অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের স্টোরে ওষুধ সরবরাহ থাকার পরও স্টোর কিপার বহিঃবিভাগ ও অন্তঃবিভাগে সরবরাহ করছেন না।

হাসপাতাল সূত্র মতে, হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় ৩ নম্বর কক্ষে ডায়াবেটিক, হৃদরোগীদের জন্য সরকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এনজিওর মাধ্যমে পৃথক এসসিডি কর্নার স্থাপন করেন। এর জন্য পৃথক চিকিৎসক এবং সরকারি ও বেসরকারিভাবে গ্লিকাজাইড ও মেটফরমিন (কমেট) সরবরাহ করে আসছে। ফলে যশোরসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার সাধারণ মানুষ খুব সহজে এই কেন্দ্র থেকে ডায়াবেটিসের উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে গত তিন মাস থেকে এই রোগের কোন ওষুধ হাসপাতাল থেকে মিলছে না। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা পড়েছেন বিপাকে। তাদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। অনেক গরীব রোগী আছেন তারা চিকিৎসকের চিকিৎসা পেলেও সরকারি ওষুধ পাচ্ছেন না। তারা ফার্মেসি থেকেও ধার দেনা করে ওষুধ কিনছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে খোদ হাসপাতালের এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘তার মাকে এক মাস পরে পূণরায় এনসিটি কর্নারে চিকিৎসক দেখান। চিকিৎসক গ্লিকাজাইড ও মেটফরমিন (কমেট) ব্যবস্থাপত্রে লেখেন। কিন্তু গত এক মাসেও এই দুইটি ওষুধ হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় তারা র্ফামেসি থেকে কিনেছেন। একই অভিযোগ করেছে উপশহর এলাকার বৃদ্ধা রওশন আরা বেগম (৭৫)। তিনি বলেন, গত ২/৩ মাস থেকে হাসপাতালের সরবরাহকৃত ওষুধ পাচ্ছেন না। ফলে শহরের ফামেসি থেকে ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের স্টোর কিপার সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ডায়াবেটিসের গিøকাজাইড ওষুধ সরবরাহ নেই। তবে মেটফরমিন (কমেট) ওষুধ সরবরাহ আছে। এই ওষুধ বহিঃবিভাগে ৪০ হাজার ও অন্তঃ বিভাগে ১০হাজার সরবরাহ করা হয়েছে। কোন কোন জায়গায় ওষুধ শেষ হয়ে যেতে পারে। ইনর্চাজরা চাহিদা দিলে সেখানে ওষুধ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তবে এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দীপাঞ্জন সাহা বলেন, নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। কোথায় ওষুধ সংকট সেটা জানি না। তবে ঠিকাদারের মাধ্যমে কেনা ওষুধ হাসপাতালে এসেছে। সংকট দ্রæত কেটে যাবে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্ববধায়ক ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য ওষুধের মত ডায়াবেটিসের ওষুধ ক্রয় করে রোগীদের বিনা মূল্যে দিচ্ছে। সর্বশেষ ৫০ হাজার ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের ওষুধ মেটফরমিন (কমেট) কেনা হয়েছে। সমস্যা হলো রোগীদের এক মাসের ওষুধ এক বারে দেওয়ার কারণে দ্রুত ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। আবারও ওষুধ কেনা হয়েছে। সংকট দ্রুত কেটে যাবে।

জাগোবাংলাদেশ/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ