চৌগাছায় ইউপি সদস্যকে হত্যা, মূল অভিযুক্তসহ ৬ জন গ্রেফতার

আরো পড়ুন

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাসী হামলায় এক ইউপি সদস্য নিহতসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ঠান্ডু বিশ্বাসের ছেলে টিংকুসহ স্থানীয়রা জানিয়েছেন এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার ঘটনায় নিহতের ছেলে টিংকু বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৩২ ।

নিহত ঠান্ডু বিশ্বাস (৫০) পাতিবিলা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং ৪নং ওয়ার্ড সদস্য । আহতরা হলেন, একই গ্রামের নিরঞ্জন কুমার ঘোষের ছেলে অসীম কুমার ঘোষ (৩২), মৃত গোলাম রাব্বানির ছেলে সিদ্দিক (৫০), আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুল হামিদ (৪৫), রুহুল আমিনের ছেলে টিটো ( ৩২), আব্দুল জলিলের ছেলে মকবুল (৩৫) এবং আব্দুল কাদেরের ছেলে মমিন (৪৫)।

ঠান্ডু বিশ্বাসের ছেলে টিংকু বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে পরাজয়ের কারণেই রুহুল আমিন রুলু তার বাহিনী নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে হত্যা করে।

ঠান্ডু বিশ্বাসের ভাইপো রাজু বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুলু টিটোসহ অনেকে দা, লাঠি, বেলচাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডু চাচাদের উপর আক্রমণ করে।

হামলায় আহত সিদ্দিক ও মকবুল বলেছেন, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাতিবিলা বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে আমারা কয়েকজন চা খাচ্ছিলাম। এসময় সেই রুহুল আমিন তার ছেলে টিটোসহ ফারুক সেলিমরা আমাদের উপর হামলা করে।

নিহত ঠান্ডু বিশ্বাসের স্ত্রী লিপি খাতুন বলেন, আমাদের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল মিয়া গত ২৩টা বছর আমাদেরকে জেল জুলুম খাটিয়ে শেষ করে ফেলেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে ওই শহিদুল মিয়া ইউনিয়নের অনেক আওয়ামী পরিবারকে ধ্বংস করেছে। গোপনে হোক আর প্রকাশেই হোক আমার স্বামীর হত্যার পিছনেও এই শহিদুল মিয়া আছেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুস সামাদ, চা দোকানি ফজলু, বাবু, হায়দারসহ অনেকে জানিয়েছেন, এলাকায় আধিপত্যকে ধরে রাখতে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শহিদুল মিয়ার ছত্রছায়ায় পূর্ব পরিকল্পিত এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নেতার কারনেই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেকে মিথ্যা মামলায় জর্জরিত।

হামলায় আহত সিদ্দিক, দোকান মালিক বাবু ও মকবুল জানান, মাগরিবের নামাজের পরে লোক মারফত শুনলাম টিটোরা ঠান্ডু, সিদ্দিক আর বাবুকে মারতে আসছে। তখন ঠান্ড বিশ্বাস তাদের দিকে এগিয়ে গেলে রাস্তার মাঝখানে তার মাথায় সেলিম বেলচা দিয়ে আঘাত করে। ঠান্ডু পরে গেলে টিটো তাকে চাকু মারে। তখন ঠান্ডু দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলে হাজী শাহাজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে গিয়ে পড়ে যান। সেখানেও তাকে বেধড়ক পিটানো হয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় আমরা আহত ছাড়াও তিনজন পথচারী আহত হয়েছেন। তারা বাবুর মোটরসাইকেলসহ তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।

গোপন একটি সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের এবং আহত আক্রমণকারীদের পকেটে ২০/৩০ হাজার টাকা করে ছিল। তাদের একক জনের পকেটে এই পরিমাণ টাকা থাকার রহস্য নিয়ে চলছে মুখোরোচক আলোচনা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিকাল মঙ্গলবার ৫টা ০৪ মিনিটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিয়াকে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, শুধু একটা ঘটনা না, হামলার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তবে সঠিক তদন্ত ছাড়া প্রকৃত কারণ বলা এখনই সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনায় দুই তিনজন পথচারী হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানান তিনি। ঘটনার ২ ঘণ্টার মধ্যেই হামলায় জড়িত রুহুল আমিন রুলু, কবির ও রওশনকে গ্রেফতার করে চৌগাছা থানা পুলিশ। পরে তুতাসহ আরো একজনকে গ্রেফতার করে।

৫ জনের গ্রেফতারের বিষয়টি চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত টিটো নিজেদের আঘাতে আহত হয়ে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় এক নেতার পরামর্শে হাসপাতাল থেকে সে পালিয়ে যায়। কিন্তু ওই রাতেই (রাত ৩টা) কালিগঞ্জ উপজেলার নিত্যানন্দিপুরের মনিরুলের বাড়ি থেকে যশোর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে যশোর ডিবি ওসি রুপন কুমার সরকার জানান, টিটোর মোবাইল ট্রাকিং করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার পরবর্তী টিটো ডিবি পুলিশকে জানিয়েছেন, মর্জাদ বাওড়কে কেন্দ্র করেই ঠান্ডুর সাথে তাদের ঝামেলা ছিল।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ