ভূয়া ডিবি সেজে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে চৌগাছার পৌর কাউন্সিলরসহ গ্রেফতার ৫

আরো পড়ুন

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধিঃ ডিবি পুলিশ সেজে ডাকাতির চেষ্টাকালে যশোরের চৌগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা বিশ্বাস ওরফে জিএম মোস্তফাকে (৪৬) ৪ জন সঙ্গীসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ সিপিসি-১’র একটি অভিযানিক দল। গ্রেফতারকৃত অন্যারা হলেন সুজন শীল ( ২৯), শরীফুল ইসলাম (৪২) মোশারফ হোসেন (৪০) ও মাহবুবুর রহমান(২৭)।

১৮ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটার বাইগুনি এলাকা থেকে ডাকাতির চেষ্টারকালে তাদেরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পৌর কাউন্সিলর মোস্তফা বিশ্বাস উপজেলার বিশ্বাসপাড়ার মগরেব বিশ্বাসের ছেলে এবং মাহবুবুর রহমান ফুলসারা ইউনিয়নের মৃত সিরাজ গাজীর ছেলে।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনাস্থ র‌্যাব-৬ এর ব্যাটেলিয়ন সদরে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ডিবি পরিচয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে। পুলিশ পরিচয়, পোষাক ও অস্ত্র দেখে ভয়ে তাদেরকে কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না। তাদের বিরুদ্ধে এরকম প্রতারনার অভিযোগ অনেক আগের। সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুক্রবার রাতে আমাদের অভিযানিক দল সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটার বাইগুনি গ্রামের হারুন আর রশিদ ডিগ্রী কলেজের দক্ষিণ পাশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেন ডিবি পুলিশের পোষাক ও খেলনা অস্ত্র দেখিয়ে এরআগেও ছিনতাইসহ নানা ধরণের অপরাধ করেছেন তারা। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল, একটি খেলনা পিস্তল, দু’টি পিস্তলের কভার, একটি ওয়াকিটকি, দু’টি ডিবি পুলিশের পরিচয় পত্র ও পোষাক, দু’টি হ্যান্ডকাপ, দু’টি পুলিশ ফিল্ডক্যাপ, একটি পুলিশ বেল্ট, একটি ভুয়া পুলিশের আইডি কার্ড, চারটি মোবাইল ফোন, অস্ত্র রাখার একটি ব্যাগ ও একটি পিস্তল বাধার চেইন জব্দ করেছে র‌্যাব।
এদিকে শনিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ আরো জানান,, সাতক্ষীরায় এদের একটি বিশাল চক্র রয়েছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে তাদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চৌগাছা পৌরসভার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মোস্তফা বিশ্বাস (আনুমানিক ১৯৯৯ সালে) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (১২ ইঞ্জিয়ার ব্যাটালিয়ানের ব্রীজ কোম্পানি) সৈনিক পদ থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গ,নারী কেলেংকারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে চাকুরিতচ্যুত হন। পৌরসভার বিশ্বাসপাড়ার ছেলে মোস্তফা এলাকায় ফিরে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। সেই সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চাদাবাজি,মটর সাইকেল চুরি ও চোরাই মটর সাইকেলের ব্যবসা,বিভিন্ন প্রকার প্রতারনাসহ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা করতে থাকেন। পৈত্রিক পরিচয়ে স্থানীয় নেতাদের সাথে তার সখ্যতার জেরে ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনে ৫নং ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার ও ২০২১ সালে দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হয়ে মোস্তফা ২০২০ সালের ১৭মে ঝাউতলা এমকেএমজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। স্থানীয় রাজনীতিতে দাপটের সাথে থাকা মোস্তফার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ৮অক্টোবর যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সাবেক ডিজিএম প্রকৌশলী কামাল জিয়াউল ইসলাম লেলিন উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় ৪ বছর ধরে অবৈধভাবে বিদ্যুত চুরির অভিযোগ করেন। এরপরই মোস্তফা ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের শিরোনাম হন।

স্থানীয়রা বলছেন গ্রেফতারকৃত মোস্তফা বিশ্বাস নিজ এলাকায় তৈরি করেছেন বিশাল এক আলিশান বাড়ি। প্রতিনিয়ত মটর সাইকেল ও মোবাইল ব্রান্ড পরবির্তন করে লর্ড স্টাইলে চলা মোস্তফার আয়ের উৎস সম্বন্ধে উপজেলাব্যাপি নানান আলোচনা রয়েছে। ভুয়া ডিবি পুলিশ সেজে বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ডাকাতি করে বেড়াতেন মোস্তফাসহ তার দল। তবে স্থানীয়দের দাবী, মূলত অবৈধ সোনা ছিনতাই করাই তাদের পেশা। একারনেই তিনি দ্রুত অর্থশালি হয়ে উঠেছেন।

জাগোবাংলাদেশ/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ