আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের আত্মহত্যা পুরো ভারতের সাংবাদিকতার জগৎকে নাড়িয়ে দিয়েছে। গত রবিবার তিনি তার কর্মস্থলেই আত্মহত্যা করেছেন।
ইনডিপেনডেন্ট ইউকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ু রাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়ার (ইউএনআই) কর্মরত টি কুমারের মরদেহ তারই কর্মস্থলের বার্তাকক্ষে পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন ইউএনআইয়ের তামিলনাড়ুর ব্যুরোপ্রধান ও একজন ফটোসাংবাদিক।
তার এই মৃত্যু ভারতের সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা যে বেতনবঞ্চিত হচ্ছেন এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যে অব্যবস্থাপনা চলছে দেশটিতে, তা আরো একবার সামনে এলো। জানা গেছে, টি কুমারের বকেয়া বেতন জমা হয়েছে ৬০ মাসের। তিনি বেশ আর্থিক সংকটে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তারই সহকর্মীরা।
যদিও ইউএনআইয়ের এডিটর ইন চিফ অজয় কুমার বিষয়টিকে আত্মহত্যার কারণ মানতে নারাজ।
প্রবীণ একজন সাংবাদিকের আত্মহত্যার ঘটনাকে খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে অজয় কুমার বলেন, পুলিশের উচিত বিষয়টির যথাযথ তদন্ত করা।
তিনি আরো বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, তিনি কোনো সুইসাইড নোট রেখে যাননি। এমন কোনো বিষয় খুঁজে পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে কোনো আর্থিক সংকটের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
কিছু মানুষ ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, এমনটিই দাবি করে তিনি বলেন, আমরাও ঘটনাটির বিস্তারিত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাই।
ভারতীয় সাংবাদিকদের বেতন সমস্যা বেশ পুরোনো। টি কুমারের মৃত্যুতে বিষয়টি আবারো সামনে এলো।
ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক বিশ্ব বিশ্বনাথ সর্বপ্রথম টুইট বার্তায় বিষয়টি সামনে আনেন।
তিনি ইউএনআইয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, টি কুমার অন্য কোথাও আত্মহত্যা না করে ইউএনআইয়ের তামিলনাড়ুর অফিসেই আত্মহত্যা করেছেন। তার পুরো জীবনটাই যে ইউএনআই ধ্বংস করেছে, বিষয়টি তিনি অনুধাবন করেছিলেন। কর্মস্থলে আত্মহত্যা তারই ইঙ্গিত।

