জাগো বাংলাদেশ ডেস্ক: প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজের ২৬ দিন পর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আবু হুরায়রার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পুরাতন একটি কবর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে মোমিনের স্বীকারোক্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আবু হুরায়রার চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের তালতলা গ্রামের গোরস্তানপাড়ার আব্দুল বারেকের ছেলে ও চুয়াডাঙ্গা ভিজে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নিয়েছে। অভিযুক্তরা স্কুলছাত্রের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ বাবদ ২৯ জানুয়ারি চিরকুট দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ১ ফেব্রুয়ারি চিরকুট দিয়ে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে নাম্বার দেয়। এসএমএস দিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। পরের দিন স্কুলছাত্রের পরিবার মুক্তিপণ বাবদ ৫ লাখ টাকা দিতে চাইলে তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ৩ ফেব্রুয়ারি তারা একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে চাঁদা চায়। ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তিপণের জন্য ৬ লাখ টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। চিরকুট ও মোবাইল ফোন নাম্বার স্কুলছাত্রের পরিবার পুলিশকে দেয়। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে অভিযুক্তদের সনাক্ত করে মোমিনকে আটক করলে হত্যারহস্য উদঘাটন হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহাসিন বলেন, ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আবু হুরায়রার নিজ বাড়ি থেকে একই গ্রামের শিক্ষক রঞ্জুর কাছে বিকালে প্রাইভেট পড়তে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দিন স্কুলছাত্রের পিতা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
২৬ জানুয়ারি আবু হুরায়রার পিতা ৫ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে।
রবিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তালতলা গ্রামের গোরস্তানপাড়া থেকে শহিদুল ইসলামের ছেলে মোমিনকে আটক করে থানায় নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আবু হুরায়রারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গ্রামের গোরস্তানের একটি পুরাতন কবর খুড়ে লাশ গুম করে রাখে। রবিবার রাতে মোমিন লাশ গুম করে রাখা কবরটি পুলিশকে দেখিয়ে দিলে খুড়ে স্কুলছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
৬ বোনের একমাত্র ছোট ভাই ছিল আবু হুরায়রার। সন্তান হারানোর শোকে পাগল প্রায় পরিবারের সদস্যরা।
জাগোবাংলাদেশ/এমআই

