ঢাকা অফিস: নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের জন্য এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটি। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের পদে যোগ্য ব্যক্তির তালিকাও আহবান করা হয়েছে। আজ বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সার্চ কমিটির কাছে সেই নিজেদের এ সংক্রান্ত তালিকা জমা দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর আগেই দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের কাছ থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম নিয়েছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। এসব নাম নিয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সভায় আলোচনাও করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সভাপতিমণ্ডলীর সভায় বসে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই ফোরামের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সূত্র বলছে, সংগঠনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে সভা ডেকে সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাবের আগে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের কাছ থেকে সিইসি ও অন্যান্য ইসি পদে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম বিষয়ে মতামত নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে আলোচিত নামগুলো থেকেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিইসি ও ইসি পদে যোগ্যদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। সেই তালিকা বুধবার জমা দেয়া হবে সার্চ কমিটির কাছে।
বৈঠকে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই জন সদস্য বলেন, সার্চ কমিটিতে নাম প্রস্তাব করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা প্রত্যেকে নিজ নিজ পছন্দের নাম প্রস্তাব করেছেন। তারা নিজেদের তালিকা দলীয় সভাপতির কাছে জমা দেন। এসব প্রস্তাবিত নাম থেকে বাছাই করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যদের নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সর্বসম্মতিক্রমে দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে।
আওয়ামী লীগ নেতারা আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবেও গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব দেয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে তারই আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
দলীয় নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ইচ্ছা করলেই কারও মতামত না নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে পরামর্শ করে সার্চ কমিটিতে নাম প্রস্তাব করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সবার কাছ থেকে নাম প্রস্তাব চেয়েছেন এবং আমরা প্রস্তাব করেছি। সবার সম্মতিক্রমে তাকে সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্র বলছে, বৈঠকে সার্চ কমিটির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, শিগগিরই সার্চ কমিটি জাতিকে একটি সুন্দর ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন উপহার দিতে রাষ্ট্রপতির কাছে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করবে। আমরা সেই প্রত্যাশাই করি। এখানে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার বা গুরুত্ব দেয়া হবে না। সবার কাছে গ্রহণযোগ্যরাই সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার পদে নিয়োগ পাবেন- আমরাও এই প্রত্যাশা করি।
সংসদে নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত আইনটি পাস করার ক্ষেত্রে বিএনপি দলীয় সাংসদদের সংশোধনী ও মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, আইনটি পাসের আগে সংশোধনী নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছি এবং সংশোধনী গ্রহণ করেছি। এর চেয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নজির আর কী হতে পারে? আর যারা এই আইনটির বিরোধিতা করছেন, তাদের জন্মই তো সামরিক জান্তা সরকারের সময়ে। তারা বিরোধিতা করবেই। তারা তো বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করেই থাকে।
এর আগে, রবিবার নির্বাচন কমিশন গঠন করতে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নামের সুপারিশ পাঠাতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানায় রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটি। পরে অবশ্য আজ মঙ্গলবার সার্চ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, বুধবার এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হবে।
এদিকে, সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠক থেকে সবাইকে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক সূত্র বলছে, সব পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিস্তারিত তুলে ধরারও আহবান জানান তিনি।
বৈঠকে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন

