আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কর্ণাটকে একটি কলেজে হিজাব পরহিত ছাত্রী মুসকানকে গেরুয়া ওড়না পরা একদল যুবকের বিরুদ্ধে একা দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মুসকানের প্রতিবাদের সেই ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, মান্ডিয়া কলেজে এক দল গেরুয়া ওড়না পরা যুবকের স্লোগান ও চিৎকারের মুখে পড়েন মুসকান, কিন্তু তিনি তাদের রুখে দাঁড়ান।
ওই যুবকরা যখন ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছিলেন, মুসকানও পাল্টা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে স্লোগান দেন। তারা যখন মুসকানের পিছু পিছু আসছিল তখনও মুসকান ‘আল্লাহু আকবার’… ‘আল্লাহু আকবার’ বলছিলেন। এক পর্যায়ে ওই কলেজের কর্মকর্তারা তাকে যুবকদের কাছ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে মুসকান বলেন, আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম না। যখন আমি কলেজে যাই, তারা আমাকে ঢুকতে দিতে চাচ্ছিলেন না শুধু বোরকা পরে থাকার কারণে। তারা জয় শ্রী রাম বলে চিৎকার করছিলেন, তাই আমিও আল্লাহু আকবার বলে চিৎকার করছিলাম। অধ্যক্ষ ও প্রভাষকরা আমাকে সমর্থন করেছিলেন এবং আমাকে রক্ষা করেছিলেন।
তিনি বলেন, ওই দলের মাত্র ১০ শতাংশ ছিল কলেজের ছাত্র এবং বাকিরা ছিল বহিরাগত। আমাদের অগ্রাধিকার আমাদের শিক্ষা। তারা আমাদের শিক্ষা পরিবেশকে নষ্ট করছে।
এদিকে কর্ণাটকের কলেজগুলোতে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও গেরুয়া ওড়না পরা যুবকদের মধ্যে বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জানুয়ারির শেষের দিকে উদুপি সরকারি মহিলা কলেজে যখন ছয় ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাস করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন, তখন থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত।
মুসকান বলেন, এটি গত সপ্তাহে শুরু হয়। আমরা সব সময় বোরকা ও হিজাব পরতে অভ্যস্ত। আমি ক্লাসে হিজাব পরতাম এবং বোরকা খুলে ফেলতাম। হিজাব আমাদের অংশ। অধ্যক্ষ এ নিয়ে কখনও কিছু বলেননি। বহিরাগতরা এটি শুরু করেছে। অধ্যক্ষ আমাদের বোরকা না পরতে পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা হিজাবের জন্য বিক্ষোভ চালিয়ে যাব। এটি মুসলিম মেয়ে হওয়ার একটা অংশ মাত্র…।
বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই ছাত্রী জানান, তার হিন্দু বন্ধুরা তাকে সমর্থন করেছে।
তিনি বলেন, আমি নিরাপদ বোধ করছি। সকাল থেকে সবাই বলছে, আমরা আপনাদের সাথে আছি।

