ডেস্ক রিপোর্ট: যশোরের চৌগাছায় লিপি খাতুন (৩৮) নামে এক গৃহবধূ ১০ মাসের কন্যা রেখে আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে ঘরের আড়া থেকে ওড়নায় পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা। সংবাদ পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় মরদেহটি উদ্ধার চৌগাছা থানায় নেয়।
বুধবার (১২ জানুয়ারি) মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
নিহত লিপি খাতুন উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের টেঙ্গুরপুর খালপাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মুক্তার আলীর স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে লিপির ঘরে (শয়ন কক্ষে) আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। এসময় লিপির দশ মাস বয়সী কন্যা ছাড়া বাড়িতে কেউ ছিলো না। লিপি বেঁচে আছে ভেবে প্রতিবেশীরা দ্রুত ওড়না কেটে উদ্ধার করেন। পরে বুঝতে পারেন তিনি মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ দাফনের প্রস্ততি নেয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় মরদেহটি উদ্ধার করে চৌগাছা থানায় নেয়। পরে বুধবার সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
প্রতিবেশীরা জানান, তিন সন্তানের জননী লিপির দশ মাস বয়সী একটি কন্যা রয়েছে। সম্প্রতি লিপি-মুক্তার তাদের ১৫ বছর বয়সী তাদের বড় ছেলেকে বিয়ে দেয়। তাদের অন্য ছেলের বয়স পাঁচ/ছয় বছর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছার শর্তে প্রতিবেশীরা বলেন, লিপি ও মুক্তারের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। ছোট-খাটো কারণেও মুক্তার তার স্ত্রী ও সন্তানদের চরম মারপিট করতেন। নতুন পুত্রবধূর সামনেও মুক্তার স্ত্রী-সন্তানদের মারপিটে দ্বিধা করতো না। এসব কারণে স্বামীর উপর অভিমান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন তিনি।
চৌগাছা থানা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিপ্লব সরকার বলেন, সংবাদ পেলে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরাহতল প্রতিবেদন শেষে থানায় নেয়া হয়। বুধবার সকালে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

