তৃতীয় লিঙ্গের চেয়ারম্যান ঋতু ‘অবহেলিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাবো’

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘এলাম দেখলাম জয় করলাম’-রোম সাম্রাজ্যের সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের বাণী এটি। সেই বাণীর মতোই মিল খুঁজে পাচ্ছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ভোটাররা। অনেকটা আকস্মিকভাবে এলাকায় এসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দিলেন তৃতীয় লিঙ্গের নজরুল ইসলাম ঋতু। নির্বাচনে জয়লাভের পর একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি সাংবাদিকদের জানালেন, অবহেলিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাবো। তিনি আরো বলেন, সমাজের একজন অবহেলিত মানুষ হয়েও এলাকার মানুষ আমাকে ভালবেসে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। এজন্য আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো। মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। তিনি বলেন, এই গ্রামে আমার জন্ম। এখানে আমার পরিবার বেড়ে উঠেছে। তাদের পাশে থেকে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সম্প্রদায়ের ভোটের অধিকার দিয়েছেন। তার অবদানের কথা আমরা কোনদিনও ভুলবো না।
গত ২৮ নভেম্বর’২১ রোববার তৃতীয় ধাপে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। আনারস প্রতিক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমে ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকা প্রতিকে নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান হিসাবে ঋতু তার প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থীর চেয়ে ৫ হাজার ২৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান ঋতু তার নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরে বলেন, জন্মের পর তৃতীয় লিঙ্গের একজন হওয়ার কারণে ৫ বছর বয়সে ঢাকাতে চলে যাই। সামান্য লেখাপড়া করলেও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিকের গন্ডি পার করা সম্ভব হয়নি। ছোটবেলা থেকেই ঢাকার ডেমরা থানাতে আমার দলের গুরু মার কাছেই বেড়ে ওঠা। এখন আমার বয়স ৪৩ বছর। গুরু মার পরের দায়িত্বটা এখন আমার কাঁধে। তবে ঢাকাতে থাকলেও পরিবারের টানে প্রায়ই বাড়িতে আসি। ঋতুর আরও তিন ভাই ও তিন বোন রয়েছে। তিন ভাই ঢাকাতে থাকেন ও বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে।
সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। বাবা মারা যাওয়ার সময় বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। যতদিন বাঁচবো, তার আদর্শেই কাজ করবো। এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেলেও এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোটে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাদের ভালবাসার ভোটেই আজ আমি জয়ী হয়েছি।
ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপ দিতে চাই। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সব থেকে বেশি কষ্ট পাই যখন শুনি আমার এলাকার কেউ অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না অথবা মেয়ে বিয়ে দিতে পারছে না। এখন বিজয়ী হতে পেরে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করতে পারবো।
উল্লেখ্য, এরআগে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাশ^বর্তী উপজেলা কোটচাদপুরের পিংকি খাতুন নামে এক তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দেশের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের প্রথম জনপ্রতিনিধির স্বীকৃতি পান।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ