তালা (সাতক্ষরিা) প্রতিনিধি ॥ তালার খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামে অসহায় মেয়ের মাছের ঘের লুটপাট করা হয়েছে। বৃদ্ধ পিতা ও মাতাকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য দরিদ্র স্বরস্বতী সরকার নিজস্ব সাড়ে তিন বিঘা জমির উপর মাছের ঘেরটি করে আসছিলেন। এই ঘের লুটপাট সহ হামলা চালানোর ঘটনায় গোটা এলাকার মানুষ লুটকারী অনিল সরকারের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এবিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
উপজেলার কলাগাছি গ্রামের খগেন্দ্রনাথ সরকারের মেয়ে স্বরস্বতী সরকার জানান, কোনও ভাই না থাকায় বৃদ্ধ ও মানষিক প্রতিবন্ধী পিতা খগেন্দ্রনাথ সরকার এবং বৃদ্ধা মাকে নিয়েই তার সংসার। পিতা-মাতা সংসার চালানোয় অক্ষম হয়ে পড়ায় পিতার দানসূত্রে পাওয়া বড়আবাদ বিলের সাড়ে ৩বিঘা জমিতে তিনি নিজেই মাছের ঘের করে আসছেন। মায়ের সহযোগীতা নিয়ে স্বরস্বতী দীর্ঘ বছর ধরে এই ঘের’র আয় দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সম্প্রতি চাচাতো ভাই অনিল সরকার প্রতারনার মাধ্যমে একটি দলিল তৈরি করে ওই জমি তার বলে দাবী করে। এনিয়ে তালা উপজেলা পরিষদে সালিস সভা হয়। সালিসে ওই জমি দখল বা অসহায় স্বরস্বতী সরকারের পরিবারকে কোনও হুমকি বা ক্ষতিসাধন না করার জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অনিল সরকারকে নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে সে বুধবার গভীর রাতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে দরিদ্র স্বরস্বতী সরকারের ঘেরের বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে মাছ লুটপাট করে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকালেও সে মাছ লুটপাট করে। পরপর ৩ দিনে অনিল সরকার প্রায় ২লাক্ষ টাকার মাছ লুটপাট এবং বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। লুটপাটকালে স্বরস্বতী সরকার ও তার মা বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের পিটিয়ে আহত করে। এছাড়া নানাবিধ হুমকি প্রদান করায় অসহায় স্বরস্বতী সরকার প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। একপর্যায়ে বর্বর এই ঘটনায় গ্রামের লোকজন প্রতিবাদমূখর হয়ে উঠলে অনিল সরকার হামলা ও লুটপাট বন্ধ করে।
পিতা-মাতার দেখভাল করা মেয়ের শেষ অবলম্বন লুটপাট

