দীর্ঘ ২২ বছর পর আগামী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে শিল্পনগরী খুলনাসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে বইছে উৎসবের আমেজ। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরে এসেছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
সোমবার সকাল ১০টায় নগরীর খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত এই বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। বিএনপি দলীয় সূত্রমতে, সর্বশেষ ২০০৪ সালে তিনি খুলনা সফর করেছিলেন।
লক্ষ্য ৮ লাখ মানুষের সমাগম
জনসভাকে সফল করতে এবং এটিকে দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সমাবেশে রূপ দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
* টার্গেট: খুলনা মহানগর, জেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে প্রায় ৮ লাখ মানুষের উপস্থিতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
* বিশাল মঞ্চ ও আধুনিক প্রযুক্তি: ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে বিশালাকৃতির মঞ্চ এবং অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত।
* তদারকি কমিটি: সমাবেশ সফল করতে আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়াসহ ৬টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন:
> “তারেক রহমানের এই সফর আমাদের জন্য সাহস ও মনোবল ফিরে পাওয়ার মুহূর্ত। দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে নিজের শহরে দেখতে পাওয়া আমাদের কাছে আবেগ ও সম্মানের বিষয়। এই সমাবেশ দক্ষিণাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক শক্তির এক বিশাল বহিঃপ্রকাশ হবে।”
>
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, শুক্রবার রাতে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে জনসভার স্থান ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। ওই বৈঠকে খুলনা-২ আসনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম বকুলসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সমাবেশস্থলের চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
খুলনা এখন পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনের নগরী। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার এবং তাঁর নির্বাচনী বার্তা শোনার জন্য প্রবল কৌতূহল বিরাজ করছে।

