আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রশীদ আহমাদের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনী এক পথসভায় তিনি ঘোষণা করেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে।
বক্তব্যের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি মণিরামপুরের হিন্দু অধ্যুষিত ভবদহ এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় রশীদ আহমাদ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন:
“এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ করে। তারেক রহমানের পিতা মরহুম জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন তিনি সব নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল চালু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা আশা করি, দেশনায়ক তারেক রহমান যদি ক্ষমতায় আসেন, তবে তিনি আওয়ামী লীগকেও পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ দেবেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেহেতু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই বা তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই, তাই ভোটাররা যেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেন।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের দায়ে অভিযুক্ত ও বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা আওয়ামী লীগকে নিয়ে এমন মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বা ‘শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মণিরামপুরের বৃহৎ একটি ভোটব্যাংক (বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও সাবেক আওয়ামী সমর্থক) নিজের দিকে টানতেই রশীদ আহমাদ এই কৌশল অবলম্বন করেছেন।
বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর রশীদ আহমাদ এক বিবৃতিতে জানান:
> “আমার বক্তব্যটি মূলত তৃণমূলের নিরপরাধ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ছিল। বিএনপি বা তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন, সেটি বোঝাতেই আমি উদারতার উদাহরণ দিয়েছি। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ভোটের মাঠে ফায়দা লুটতে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করছে।”
উল্লেখ্য, রশীদ আহমাদ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন এবং তিনি সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি মো. ওয়াক্কাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন।
মণিরামপুরে এবার বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমন সময়ে রশীদ আহমাদের এই ‘আওয়ামী তোষণমূলক’ বক্তব্য ভোটের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

