যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক বৃদ্ধকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের সময় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে চালকদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। রোগীর জীবন যখন সংকটাপন্ন, তখন চালকদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্বে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনরা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেলিম (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীর ও পায়ের একাধিক স্থানে গভীর জখমসহ হাড় ভেঙে যাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন।
যন্ত্রণায় রোগী, বাইরে চালকদের বাগ্বিতণ্ডা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়ার্ডের ভেতরে যখন বৃদ্ধ সেলিম যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন, তখন বাইরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সিরিয়াল ও ভাড়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাগ্বিতণ্ডা। এক চালক ভাড়া চূড়ান্ত করলেও অন্য চালকরা তাতে বাধা দেন এবং নিজেদের মধ্যে হট্টগোল শুরু করেন। এতে মুমূর্ষু ওই রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হয়।
ক্ষুব্ধ স্বজন ও সাধারণ মানুষ
সেলিমের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রতিটি মুহূর্তই ছিল মূল্যবান। তার হাত ও পায়ে অসংখ্য সেলাই লেগেছে এবং উন্নত সার্জারি প্রয়োজন। এই অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের এমন অপেশাদার ও অমানবিক আচরণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের এমন ‘সিন্ডিকেট’ বা ভাড়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা নতুন নয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

