বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা দেশে থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল থাকত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও সদরের ২৯ মাইল এলাকার বিডি স্কুলমাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর দেশে ভোট হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচন আগের চেয়ে আলাদা। আগে লড়াই হতো ধানের শীষ আর নৌকার মধ্যে। কিন্তু এবার নৌকা নেই। নৌকার কান্ডারি শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের ফেলে দিল্লি গিয়ে বসে আছেন। তিনি আমাদের বিপদে ফেলে গেছেন।”
এ সময় তিনি নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন যে, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন সরকার গঠন করার স্বপ্ন দেখছে।
‘
হিন্দু ভোটারদের আশ্বস্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই; যারা এখানে আছেন, তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। সবার সমান অধিকার।” তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্ভয়ে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা সবসময় তাদের পাশে থেকে পাহারা দেবে।
মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন:
* বিএনপি ব্যবসার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে।
* দলের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
* জনগণের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই এই নির্বাচনের বড় অঙ্গীকার।
তিনি স্থানীয় ভোটারদের প্রতি কোনো ধরনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। সভায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিশাল জনসমাগম ঘটে।

