যশোরের অভয়নগরে তালাকের প্রতিশোধ নিতে সাদিয়া বেগম (২০) নামে এক তরুণী গৃহবধূকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করেছে তার সাবেক স্বামী রহমত (৩০)। ধারালো বাটালি দিয়ে সাদিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত রহমতকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহীমোড় এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাদিয়া খুলনার কয়রা উপজেলার উলা গ্রামের শুকুর গাজীর মেয়ে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নেপথ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও নির্যাতন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে রহমতের সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাদিয়ার মা রেবেকা বেগম অভিযোগ করেন, গত এক বছর ধরে রহমত সাদিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিন মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) হয়। এরপর থেকেই রহমত সাদিয়াকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যায় রহমত কাঠ খোদাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ধারালো লোহার বাটালি নিয়ে সাদিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সাদিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং রহমতকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা রহমতকে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
রহমত তার অপরাধ স্বীকার করে উগ্র স্বরে বলেন, “সাদিয়া আমার না হলে অন্য কারো হতে পারবে না।”
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে হামলার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত রহমতকে পুলিশি পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষী রহমতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

