যশোরের শার্শা উপজেলায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নবনির্মিত একটি ইট বিছানো সড়কের ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কথিত ‘ডাবলু বাহিনী’র বিরুদ্ধে। উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের জিরেনগাছা গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত আরমান হোসেন ওরফে ডাবলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সারুন সাপা ট্রেডার্স’-এর ম্যানেজার নাসির উদ্দিন জানান, জিরেনগাছা গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে আছির উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত ইট বিছানো সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই ডাবলু বাধা সৃষ্টি করে। এক সপ্তাহ আগে সে মাইকিং করে কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেয়। পরে কাজ শেষ হলে ডাবলু তার সহযোগীদের জন্য মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। ঠিকাদার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত সোমবার ডাবলুর নেতৃত্বে সড়কের ইটগুলো উপড়ে ফেলা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডাবলু একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির ব্যক্তি। গত ৫ আগস্টের পর এলাকায় ফিরে এসে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। জিরেনগাছা গ্রামের বাসিন্দা মোমিনুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১২ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলও ডাবলু বাহিনী পণ্ড করে দেয়। অনুষ্ঠান বন্ধ করতে এলাকায় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদ হোসেন বলেন, “ডাবলু একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমনকি দলীয় প্রধানের দোয়া মাহফিল পণ্ড করার দুঃসাহসও দেখিয়েছে। তার দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরমান হোসেন ডাবলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

