বেনাপোলে মাছের আড়ালে ৫ টন ভারতীয় ইলিশ জব্দ: আমদানিকারক সাতক্ষীরার জান্নাত এন্টারপ্রাইজ

আরো পড়ুন

বেনাপোল প্রতিনিধি:
বেনাপোল স্থলবন্দরে ‘মিঠা পানির মাছ’ (সুইট ফিস) আমদানির ঘোষণা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ নিয়ে আসার একটি বড় চালান জব্দ করেছে কাস্টমস ও যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বন্দরের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে অভিযান চালিয়ে এই চালানটি আটক করা হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত মাছের মোট ২২৫টি প্যাকেজের মধ্যে ৫৩টি কার্টনে ঘোষণা বহির্ভূত ৫ হাজার ৪৩ কেজি ভারতীয় ইলিশ পাওয়া যায়। বর্তমান বাজারে এই ইলিশের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। আমদানিপত্রে এই মূল্যবান মাছের কোনো ঘোষণা ছিল না। পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক দুটির নম্বর হলো— ডব্লিউ বি ২৫ কে-৩০২৯ এবং ডব্লিউ বি ১১ ই-৫০২৭।

এই চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ এবং ভারতীয় রপ্তানিকারক মেসার্স আর. জে. ইন্টারন্যাশনাল। পণ্য খালাসের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার পানবেড়ে গ্রামের শান্ত নামে এক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে মাছের আড়ালে ইলিশ, মাংস, রুপা ও আইফোনসহ নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করে আসছেন।

বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাক দুটি সীমান্ত পার হওয়ার পর থেকেই নজরদারিতে রাখেন। পরবর্তীতে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যৌথ তল্লাশি চালিয়ে এই জালিয়াতি উন্মোচন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাস্টমস ও বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এমন শুল্ক ফাঁকির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল কাস্টমসে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে, যার অন্যতম কারণ এই ধরণের অসাধু ব্যবসা।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র পাল জানান, মিথ্যা ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টার খবর পেয়ে এই সফল অভিযান চালানো হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষণ কার্যক্রম এখনো চলছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ