ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে নির্দোষ দাবি করে রাজপথে নেমেছেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষকরা। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টিমের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে তারা এই প্রতিবাদ জানান।
উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ ঢাকা থেকে তিন সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত টিম যশোরে পৌঁছায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এই টিমে রয়েছেন উপ-পরিচালক তাপস অধিকারী ও খুলনার সহকারী পরিচালক ফজলে রহমান। তদন্ত দলটি যশোর সার্কিট হাউজে অবস্থান করে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতা এবং ঘটনার বাদী নূর নবীর সাথে পৃথকভাবে কথা বলেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা সকালে সার্কিট হাউজে তদন্ত কমিটির কাছে আশরাফুল আলমের পক্ষে লিখিত তথ্য ও প্রমাণাদি জমা দেন। এরপর দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।:
আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম, শাহিনুর রহমান ও আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেন যে, জেলা শিক্ষা অফিসারকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের জালে ফাঁসানো হয়েছে। তারা বলেন:
> “নূর নবী নামের এক ব্যক্তির সাজানো ফাঁদে আশরাফুল আলমকে আটক করা হয়েছে। তিনি একজন সৎ কর্মকর্তা। তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।”
>
যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম জানান, প্রিয় কর্মকর্তার আটকের সংবাদে শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বিভাগীয় তদন্ত চলমান থাকায় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে নিজ কার্যালয় থেকে দুদকের একটি বিশেষ টিমের হাতে ঘুষের টাকাসহ আটক হন আশরাফুল আলম। তবে শুরু থেকেই শিক্ষকরা দাবি করে আসছেন, ওই টাকা তাকে জোর করে গছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
দুদকের অভিযানে আটক শিক্ষা অফিসারের মুক্তি দাবি: যশোরে শিক্ষকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

