ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোর। বুধবার সন্ধ্যার পর শতাধিক শিক্ষক স্থানীয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘নাটক’ এবং অবিলম্বে ওই কর্মকর্তার মুক্তি চান তারা।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ফাঁদ পাতে দুদকের একটি দল। উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানান:
* তার প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশনের ফাইল আটকে রেখে গত তিন মাস ধরে তাকে হয়রানি করা হচ্ছিল।
* এর আগে প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন আশরাফুল আলম।
* বাকি টাকা না দিলে বেতন কাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছিল।
* বুধবার বিকেলে বাকি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করা হয় শিক্ষা অফিসারকে।
শিক্ষকদের পাল্টা অভিযোগ ও অবস্থান কর্মসূচি
শিক্ষা অফিসার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক দুদক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তাদের দাবি, আশরাফুল আলম অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ এবং তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের ভাষ্যমতে:
> “অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে শিক্ষা অফিসার বাথরুমে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে কোনো একটি পক্ষ তার টেবিলের ওপর টাকা রেখে আসে। পরবর্তীতে দুদক তাকে আটক দেখিয়ে নাটক সাজিয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং তাকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা বাড়ি ফিরব না।”
বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষকরা দুদক কার্যালয় ঘিরে রেখে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কার্যালয় ও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এবং আইন মেনেই এই অভিযান পরিচালনা করেছেন। এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুদকের জালে শিক্ষা অফিসার: ষড়যন্ত্রের দাবি তুলে যশোর দুদক কার্যালয় ঘেরাও শিক্ষকদের

