যশোরে খেলাফত মজলিস নেতাকে ছাত্রজনতার সোপর্দ: বিস্ফোরক মামলায় জেলহাজতে প্রেরণ

আরো পড়ুন

যশোরে খেলাফত মজলিসের সক্রিয় কর্মী ও হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শামসুর রহমানকে রাষ্ট্রবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার রাতে স্থানীয় ছাত্রজনতা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করার পর এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আটক শামসুর রহমান যশোর সদর উপজেলার কুতুরপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত ৮ আগস্ট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মচারী সংঘের সম্মেলন থেকে আটক দুই নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা সরকারবিরোধী নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলার (বাদী: ওহিদুল ইসলাম) অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে শামসুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে থানা প্রাঙ্গণে ছাত্রজনতা ও খেলাফত মজলিস নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষই সেখানে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।:
খেলাফত মজলিস যশোর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ দাবি করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত প্রতিশোধ। তিনি জানান, কুতুবপুর গ্রামের শোয়াইব হোসেন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে শামসুর রহমান পূর্বে মামলা করেছিলেন। সেই প্রতিহিংসার জেরে ‘মব’ তৈরি করে তাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ছাত্রজনতার বক্তব্য:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সংগঠক শোয়াইব হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শামসুর রহমান ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের সাথে যোগসাজশে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। শোয়াইব আরও অভিযোগ করেন, গত সরকারের আমলে শামসুর তাকে শিবির নেতা এবং তার বাবাকে জামায়াত নেতা সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় জেল খাটিয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত জেরে নয়, বরং এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান:
> “ছাত্রজনতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে একটি পেন্ডিং মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে; অন্যথায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করা হবে।”>
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এলাকায় বর্তমানে এ নিয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ