যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সহকর্মীর পরিচয় জাল করে তথ্য পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. মো. আমজাদ হোসেনকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত চলাকালীন ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ড. মো. আমজাদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. তহিদুল ইসলামের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে গোপনে তথ্য পাচার করছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিসে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে তথ্য পাঠানোর সময় তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী উপ-রেজিস্ট্রার যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তদন্ত কমিট
* দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি: ড. মো. আমজাদ হোসেনকে ডিনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে ইইই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খানকে ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
* তদন্ত কমিটি: অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এনএফটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অধ্যাপক ড. মো. শাহেদুর রহমান ও অধ্যাপক ড. মো. কোরবান আলী।
* ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞা: তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত শিক্ষককে ৩ জানুয়ারি থেকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন তার ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

