যশোর পালবাড়ি নার্সিং ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে ফের প্রতারণার অভিযোগ,

আরো পড়ুন

চূড়ান্ত পরীক্ষায় ১২ শিক্ষার্থীর অংশ নিতে না পারার খবর প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার যশোর পালবাড়ি নার্সিং ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রথম বর্ষের ৭ শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তাদের সম্পূর্ণ অজান্তে এবং অনুমতি ছাড়াই অন্য একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই বছর প্রথম বর্ষে ১৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এর মধ্যে ৭ জনকে চাঁচড়ার মিরপুর ইনস্টিটিউট অব নাসিং সাইন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারী কলেজে ভর্তি দেখানো হয়েছে। এই বিষয়ে শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের ন্যূনতম অবগত করা হয়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ভর্তির সময় তাদের বলা হয়েছিল যে তারা যশোর ইনস্টিটিউট অব নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজ (পালবাড়ি শাখা)-এ ভর্তি হচ্ছেন। ভর্তির ফি তারা এই প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভাউচারেই পরিশোধ করেছেন এবং নিয়মিত ক্লাসও করেছেন পালবাড়ির ক্যাম্পাসে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) যখন ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ার দাবিতে দিনব্যাপী বিক্ষোভ করেন, ঠিক তখনই ওই ৭ শিক্ষার্থী তাদের রেজিস্ট্রেশন অন্য কলেজে দেখানোর বিষয়টি জানতে পারেন।
অভিযোগকারী সাত শিক্ষার্থী হলেন: তামিম হোসেন, সোহাগ মল্লিক, নওসিন রাম্মি, সুবর্ণা বিশ্বাস, সংগীতা অধিকারী, সরাবি জান্নাত পুষ্প এবং জান্নাতুল ফেরদৌস ইরানী। তারা সবাই দাবি করেছেন, চাঁচড়ার ওই কলেজের নাম তারা এর আগে কখনোই শোনেননি। ভর্তি থেকে ক্লাস পর্যন্ত সব পালবাড়িতে হলেও হঠাৎ অন্য কলেজে রেজিস্ট্রেশন দেখানো তাদের সঙ্গে এক প্রকারের প্রতারণা।
একাধিক সূত্রের দাবি, পালবাড়ি শাখা ও চাঁচড়া শাখা দুটি প্রতিষ্ঠানেরই মালিকানা একই। পালবাড়ি ক্যাম্পাসের পরিচিতি ও সুনাম বেশি থাকায় সেখানে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর গোপনে কিছু শিক্ষার্থীকে চাঁচড়ার কলেজে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়। এর ফলে:
১. চাঁচড়া কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়।
২. শিক্ষক-কর্মচারীর খরচ বাঁচিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা লাভ করা যায়।
৩. কম পরিচিত চাঁচড়া কলেজের ভর্তির ‘উৎস’ পালবাড়ির নামে পূরণ করা হয়।
অভিভাবকরা এই তথ্য গোপন রাখার ঘটনাকে গুরুতর অনিয়ম আখ্যায়িত করে বলেছেন, ভর্তির সকল কাগজপত্র, রসিদ এবং ফরম পালবাড়ির নামে দেওয়া হলেও রেজিস্ট্রেশন অন্য কলেজে হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন বলেন, ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারছে না এই তথ্য সঠিক নয়, মাত্র চারজন পারছে না। তাদের মধ্যে তিনজন ফি জমা দেননি, এবং একজনের রেজিস্ট্রেশনে ভুল ছিল।
চাঁচড়া কলেজে ভর্তি করানোর বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন, “এটি সত্যি। তবে শিক্ষার্থীরা যদি চায়, তাহলে আমাদের নিজস্ব খরচে তাদের পালবাড়ি শাখায় মাইগ্রেশন করে দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ