চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচা নিয়ে পূর্ববর্তী দ্বন্দ্বে এক নারীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গণপিটুনির শিকার আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ জিন্নাত আলীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) অভিযুক্ত জিন্নাত আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
যশোর সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের লিটন হোসেনের ছেলে হৃদয় হোসেন রিপন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আটক জিন্নাত আলী মণ্ডলগাতী গ্রামের মৃত মুনসুর আলীর ছেলে এবং আরবপুর ইউপি’র গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ইজিবাইক চালক হৃদয় হোসেন রিপনকে গত ১৯ নভেম্বর সকালে জিন্নাত আলী কৌশলে পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে দেন। এতে হৃদয় অচেতন হয়ে পড়লে জিন্নাত তাঁর ইজিবাইকটি চুরি করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে হৃদয় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, জিন্নাত ইজিবাইকটি ৯০ হাজার টাকায় নড়াইলে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে পুলেরহাট বাজারে জিন্নাতকে দেখে হৃদয়ের বাবা লিটন হোসেন পাওনা টাকা ফেরত চাইলে জিন্নাত টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জিন্নাত লিটন হোসেনকে মারধর করেন।
এ সময় হৃদয়ের মা সোনিয়া বাধা দিতে এলে জিন্নাত তাঁর কাছে থাকা চাকু দিয়ে সোনিয়াকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর স্থানীয় লোকজন জিন্নাতকে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়ের বাবা লিটন হোসেন ও মা সোনিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গণপিটুনির শিকার গ্রাম পুলিশ জিন্নাতও হাসপাতালে ভর্তি হন।
রাতে হৃদয় থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে জিন্নাতকে আটক করে। বুধবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

