জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা, ২৫–৩০টি আসনে নতুন মনোনয়ন সম্ভাবনা

আরো পড়ুন

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের সূত্র জানাচ্ছে, প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ পড়া কিছু প্রার্থীকে প্রতিস্থাপিত করা হতে পারে। প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি আসনে এই পরিবর্তন হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, নতুনভাবে মনোনয়নভুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে প্রার্থীরা কেন্দ্রে লবিং-তদবির করছেন, পাশাপাশি নিজ এলাকা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা-সমাবেশ ও ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন। দলের গঠিত টিম এখন আসনভিত্তিক কোন্দল, প্রার্থীর দুর্বলতা এবং মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হাইকমান্ড ও মনোনয়ন বোর্ডের এখতিয়ারে থাকবে।

একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, ঘোষিত ২৩৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ১০–১২ জন নতুনভাবে যুক্ত হতে পারেন। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলের অন্তত ২০ জন নতুন প্রার্থী তালিকায় যুক্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর প্রকাশিত সম্ভাব্য তালিকায় চূড়ান্ত নয়, পরিবর্তনের সুযোগ সবসময় রাখা হয়েছে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির মতো বড় দলে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকাটা স্বাভাবিক। যেসব আসনে বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে হাইকমান্ড। শিগগিরই সমস্যার সমাধান করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে নামানো হবে।

ঘোষিত তালিকায় বাদ পড়া হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসলাম চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী-খান সোহেল, সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, রুমিন ফারহানা, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাই।

প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের মধ্যে বেশ কিছু জেলায় বিক্ষোভ, মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘটনা ঘটেছে। এসব এলাকায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন নেতাকর্মীরা। তবে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বলছেন, ক্ষোভ থাকলেও দলীয় ঐক্য রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বঞ্চিত নেতাদের বোঝানো হচ্ছে।

প্রার্থী তালিকায় ৮৪ জন নতুন প্রার্থী থাকলেও তাদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারে পূর্বে এমপি ছিলেন। এছাড়া চারজন সংখ্যালঘু ও ১১ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। যুগপৎ শরিক দলের প্রার্থীদের নিয়েও আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া চলতি মাসেই চূড়ান্ত হবে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত নয়। যেখানে পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে হবে, সেখানে তা করা হবে। মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু জায়গায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, তবে তা সমাধান করা হচ্ছে।”

এদিকে ঘোষিত অনেক প্রার্থী হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে নির্বাচনী কাজ করছেন এবং মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছেন। ধানের শীষের প্রচারণাসহ দলের সকল কর্মসূচিতে একযোগে অংশগ্রহণ করছেন তারা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ