যশোরে ‘নো পার্কিং জোন’কে ইজিবাইক স্টান্ড বানিয়েছেন চালকরা

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘিরে তীব্র যানজটে নাকাল হয়ে পড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মুমূর্ষু রোগী ও সাধারণ জনগন। হাসপাতাল মোড় থেকে জরুরী বিভাগ পর্যন্ত ৬ সেকেন্ডের রাস্তা কখনো কখনো আধঘন্টাও শেষ হয় না। ফলে হাসপাতালে আসা মুমূর্ষু রোগীর সময়ের অভাবে প্রানহানীও ঘটার আশঙ্কা থাকে। এদিকে আবার হাসপাতালের ২নং গেট থেকে জরুরী বিভাগ পর্যন্ত ইমারজেন্সি রাস্তাটির দুই পাশে নো পার্কিং সাইনবোর্ড থাকলেও সাইনবোর্ডের মাঝখানে মাঝখানে ইজিবাইক পার্কিং করে ইজিবাইক চালকরা। দ্রুত বড় অঙ্কের ভাড়া পাওয়ার আশায় ইজিবাইক দাড় করিয়ে যাত্রী ডাকাডাকি করে ইজিবাইক চালকেরা। তবে এমন অবস্থা যেন কারোর চোখেই পড়ে না।

সরজমিনে দেখা যায় হাসপাতাল মোড় থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে দিয়ে এম্বুল্যান্স মালিক সমিতির অফিস মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে রাস্তার অর্ধেক জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে চা-কফির ঠেলা, আখের রসের ঠেলা, বাদাম ভাজার ঠেলা, ফলমূলের দোকান। এসকল দখলদারদের প্রশ্নের সম্মুখীন করলে তাদের উত্তর হয়: আমরা এখানে প্রতিদিনই বসি। আমাদের তো কেউ কিছু বলে না। বেচাকেনা ভালো হয় তাই বসি।

আবার অন্যদিকে ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্ন্টেটিভদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল রাখা যেন এই রাস্তার চলার পথে গলার বড় কাটা। এ সকল রিপ্রেজেনটেটিভদের কাছে প্রশ্ন করলে তারা বলেন, এখানে তো সারিসারি করে বাইক রাখা হয় তাতো প্রথম থেকে দেখে আসছি। তাদের এমন কথায় মনে হয় যে রাস্তার দুপাশে বাইক রাখার জন্য মনে হয় কোন কতৃপক্ষের অনুমতি আছে। অথচ এভাবে রাস্তার উপর বাইক রাখার কোন অনুমতি নেই। তবে কখনো কখনো এই রাস্তাটি দিয়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা গমন করার আগমুহূর্তে দেখা যায় পুলিশ সদস্য ও কমিউনিটি পুলিশ দের আচমকা ব্যাপক তৎপরতা, রাস্তার দু পাশে ইজিবাইক এ্যাম্বুল্যান্স ও অটোরিকশার পার্কিং সরাতে কখনো কখনো লাঠি চার্জ,চাবি কেড়ে নেওয়া এবং রিপ্রেজেনটেটিভদের মোটরসাইকেলের হেলমেট কেড়ে নেওয়া হয়। আবার কিচ্ছুক্ষন পরে আস্তে আস্তে পূর্বে রুপ ধারন করতে থাকে।

এদিকে হাসপাতালের মূল ফটকে কিচ্ছুক্ষন দাড়িয়ে লক্ষ করলে দেখা যায় খালি ইজিবাইক হাসপাতালের মধ্যে প্রবেশ করে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে নো পার্কিং এরিয়ায় দিব্বি পার্কিং করে একে একে ইজিবাইক সিরিয়াল দিচ্ছে। জিগ্যাসা করলে তারা বলেন তারা রোগী নিয়ে আসছেন, আবার রোগী নিয়ে ফিরবেন। অথচ কিচ্ছুক্ষন পর চলে যাত্রী ডাকাডাকি।
এ সকল ইজিবাইকের পার্কিংয়ের কারনেও হাসপাতালে জরুরী বিভাগের নিকটে এসেও যানজটের শিকার হতে হয় মুমূর্ষু রোগীদের।

এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.আখতারুজ্জামান সমাজের কথা কে বলেন, যানজটের বিষয়টি আমি আগেও শুনেছিলাম পরে আমি এখানে এ্যাম্বুল্যান্স মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মিটিং করি। তাদের সাথে আমাদের সিদ্ধান্ত হয় তারা হাসপাতালের মধ্যে তাদের ৪ টি গাড়ি রেখে সিরিয়াল মেনে ভাড়া নিতে পারবে। তবে ইজিবাইক অটোরিকশা এদের কোন অনুমতি নেই। ইজিবাইক অটোরিকশা হাসপাতালের মধ্যে বেপরোয়া পার্কিং যেন না করেন সে বিষয়টি তারা খেয়াল রাখবে বলে দায়িত্ব নেন। তবুও আবারও হচ্ছে যানজট, এ ব্যাপারে আমি আবারও তাদের সাথে কথা বলবো।

এ ব্যাপারে এ্যাম্বুল্যান্স মালিক সমিতির অফিসে গেলে সেখানে সভপতির অনুপস্থিতিতে সদস্য এ্যাম্বুল্যান্স মালিক টুলু মোল্লা বলেন, আমাদের এই যানজট নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব ছিলো এটা সত্য,তবে আমাদের সাথে স্থানীয় পুলিশ সদস্য ও কমিউনিটি পুলিশদেরও সহোযোগিতা করার কথা ছিলো। তবে তারা আমাদের কোন সহোযোগিতা করে না। আমরা কোন ইজিবাইককে হাসপাতাল থেকে বের হতে বললে আমাদের সাথে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়।

কমিউনিটি পুলিশ কেন ইজিবাইক রিকশা ভেতরে ঢুকতে দেয় এমন প্রশ্নের জবাবে টুলু মোল্লা বলেন, কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের স্বার্থ আছে বলে তারা ভেতরে ঢুকতে দেয়।

কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের এই হাসপাতাল মোড়ে লোকোবল কম ফলে আমাদের চোখ ফাকি দিয়ে ইজিবাইক রিকশা ঢুকে যায়। কখনো কখনো রোগী নিয়াসতে যাচ্ছে বলে ভেতরে প্রবেশ করে, আমরাও তখন বাধা দিতে পারি না।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ