যশোর শহরে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে নিচে পড়ে সাজ্জাদ হোসেন (২৮) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে আনুমানিক ৪টার দিকে শহরের খড়কি রূপকথা মোড়ে অবস্থিত ‘একসেনচিউর নীলাচল টাওয়ার’ নামক নির্মাণাধীন ভবনটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাজ্জাদ হোসেন যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামের আজগর হোসেনের ছেলে। তিনি ওই ভবনটিতে রড মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও সুরক্ষার অভাব:
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায়, সাজ্জাদ ঘটনার সময় ভবনটির ৯ থেকে ১০ তলার ছাদে কাজ করছিলেন। যদিও তিনি রড মিস্ত্রির কাজ করতেন, দুর্ঘটনার সময় তাকে ক্রেন দিয়ে বালু তোলা এবং ময়লা নামানোর কাজে যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে দুটি বিষয় উঠে এসেছে:
১. বিদ্যুৎস্পৃষ্ট: কাজ করার সময় ক্রেনটি ভবনের গা ঘেঁষে যাওয়া ৪৪০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। এতে সাজ্জাদ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।
২. সুরক্ষার অভাব: সাজ্জাদের সহকর্মী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, সাজ্জাদ হোসেন সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই উঁচু তলায় কাজ করছিলেন। তার মাথায় হেলমেট বা নিরাপত্তা বেল্ট ছিল না। ফলস্বরূপ, নিচে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পরই নির্মাণস্থলের ম্যানেজার মিঠুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। এই ঘটনা আবারও নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষার অভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে।

