যশোরে তেলপাম্প দখল কাণ্ডে বিএনপি নেতার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

আরো পড়ুন

যশোরে তেল পাম্প দখলের অভিযোগের পর এবার নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন, তারাই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন এবং মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আনোয়ার হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি ১৯৯৯ সালে রেজিস্ট্রি করা দলিলের মাধ্যমে গোলাম কিবরিয়ার কাছ থেকে ১৭ শতক জমি কেনেন এবং ‘মেসার্স কিবরিয়া ফিলিং স্টেশন’-এর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১২-১৩ সালে কিবরিয়া আর্থিক সংকটে পড়লে তিনি তার ভাই জামাল হোসেন-এর কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে কিবরিয়াকে দেন। ২০২২ সালে কিবরিয়ার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশ এবং স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থক ২০২৪ সালে পাম্পে হামলা চালিয়ে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এরপর মিথ্যা মামলায় তাকে আটক করা হয় এবং কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুম-সহ আওয়ামী লীগ সমর্থকরা তার পাম্প দখল করে নেয়।
তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে গোলাম কিবরিয়ার ঋণের কারণে তার সম্পদ নিলামে উঠলে তার ছোট ভাই জামাল হোসেন ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় ১১৫ শতক জমিসহ ‘তনিমা ফিলিং স্টেশন’ কিনে নেন। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিস্ফোরক পরিদপ্তর সেই পাম্পের লাইসেন্স বাতিল করে ‘মেসার্স আনোয়ার ফিলিং স্টেশন’ নামে নতুন লাইসেন্স দেয়, যা ২০২৬ সাল পর্যন্ত বৈধ। কিন্তু বর্তমানে সেটিও তনিমা ও তার সমর্থকরা অবৈধভাবে দখলে রেখে ব্যবসা চালাচ্ছে বলে আনোয়ার অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা যখন তার ফিলিং স্টেশনের তেল সরবরাহের কাগজপত্র এবং তার ও তার ভাইয়ের টাকার উৎস জানতে চান, তখন তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন এবং কিছু প্রশ্নের অযাচিত উত্তর দেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা এবং বিচারকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের পেছনে বেনাপোলের গোলাম মোর্শেদ সেলিম ও কামরুল-সহ একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করছে। তিনি আরও বলেন, তনিমার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার ভাই জামাল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ