গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।
ঘটনার পর গুরুতর আহত নুরুল হক নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, নুরের ওপর হামলাকারীকে লাল শার্ট পরা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ভুল তথ্য। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা সম্রাটের ওপর হামলা করেছে। আর নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। সেনাবাহিনীর এক সদস্য নুরের বুকে খোঁচা দিয়ে আঘাত করেছেন এবং বুট দিয়ে পেটান বলে দাবি করেন তিনি। নুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানান রাশেদ খান।
তিনি বলেন, “এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। আমরা জানতে চাই, সেনাবাহিনী কার নির্দেশে মাঠে নেমে আমাদের ওপর হামলা চালালো? সেনাপ্রধানের দায়িত্ব হচ্ছে এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”
রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের আমলে ডিজিএফআই যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের চেষ্টা করেছে, এবারও একই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমাদের বিরোধী দলে পরিণত করার ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।”
তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আপনার কোনো দায় আছে কি না তা জাতিকে জানাতে হবে। দায় না থাকলে প্রকাশ্যে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। নীরব থাকলে আমরা ধরে নেব আপনি জড়িত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় আপনাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।”
দলীয় সূত্র জানায়, গণঅধিকার পরিষদ হামলার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেনা ও পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

