যশোরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (তারিখ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আতোয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সজিব যশোরের পালবাড়ি তেঁতুলতলার মিজানুর রহমানের ছেলে এবং ঢাকার বাড্ডার বৈশাখী সরণীর বাসিন্দা। বিষয়টি আদালতের বিশেষ পিপি আব্দুল লতিফ লতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ওই ছাত্রী যশোর শহরের এক কলেজে ভর্তি হয়ে ফুফুর বাড়িতে থাকতেন। সেখানে ফুফাতো বোনকে পড়াতে আসতেন সজিব। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৬ সালের ১৫ জুন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সজিব বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে।
পরে উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে সজিব সুযোগ নিয়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করে এবং গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। বিয়ের জন্য চাপ দিলে সজিব এড়িয়ে যেতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই ভুক্তভোগী বিষয়টি সজিবের মাকে জানালে তিনি জানান, সজিব অন্যত্র বিয়ে করেছে এবং আর বিয়ে করবে না। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট আদালতে মামলা করেন ছাত্রীটি।
আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায় এবং ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বিচারক আসামি মাশরুর রহমান সজিবকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

